কারা ডিআইজির বাসায় ৮০ লাখ টাকা

পার্থ গোপালের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সাময়িক বরখাস্ত থাকা কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঘুষ গ্রহণ ও মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন আদালতে এই অভিযাগপত্র দাখিল করেন। কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। 

পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রটি গতকাল ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ দেখেছেন। আগামী ৩১ আগস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই কারাগারের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পার্থ গোপাল বণিককে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে অভিযানে যায় দুদক দল। ওইদিন বিকেলে ধানমন্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপালের ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে দুদক। এর পরই তাকে আটক করা হয়। পরদিন ২৯ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করেন দুদক উপপরিচালক সালাহউদ্দিন।

দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জব্দ ও সংগৃহীত নথিপত্র ও মামলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সার্বিক পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) পার্থ গোপাল বণিক চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেও কর্মরত ছিলেন। সরকারি চাকরিতে  দায়িত্ব পালনকালে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেন। এই টাকার অবস্থান গোপন করতে কোনো ব্যাংক হিসাবে জমা রাখেননি। তিনি টাকাগুলো বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিজ বাসস্থানে লুকিয়ে রাখেন। এটি দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তবে আদালতে পার্থ গোপাল বণিক দাবি করেছেন, ৮০ লাখ টাকা তার বৈধ আয় থেকে অর্জিত। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা শাশুড়ি দিয়েছেন, বাকি ৫০ লাখ টাকা সারা জীবনের জমানো সঞ্চয়।