বন্ধ সিনেমা হল চালু করতে মালিকরা চাইলে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে একটি তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে করণীয় ঠিক করতে বলেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বন্ধ সিনেমা হল পুনরায় হল মালিকরা চালু করতে চাইলে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। তবে তার আগে হল মালিকদের আবেদন করতে হবে। বন্ধ সিনেমা হল বাঁচাতে সরকার আর্থিক ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করে দেবে। এজন্য প্রয়োজনে আলাদা একটি তহবিল করতে হবে।’
একনেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (১১টি)’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৭৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে সরকারি অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ফ্রিল্যান্সারদের বিয়ের সমস্যার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেন।
এই প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সাররা ভালো আয় করে। স্মার্ট। ইংরেজি ভালো জানে। কিন্তু সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকায় বিয়ে করতে সমস্যা হয়। তাই তাদের কীভাবে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আইসিটি খাতে সরকার ইতিমধ্যে ভালো কাজ করেছে। ভালো আয় হচ্ছে। অনেকে লাখ লাখ টাকা কামায় বাসায় থেকে। আজ একজন মন্ত্রী বললেন, উত্তরবঙ্গের এক ছেলে কোটি টাকা কামাই করে।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ইন্টারেস্টিং একটা ঘটনা বললেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, তারা (ফ্রিল্যান্সার) এত ভালো কাজ করে। স্মার্ট ছেলেপেলে। সুন্দর কাপড় পরে। কিন্তু বিয়ে করতে গিয়ে অসুবিধা হয়। শ্বশুরবাড়ি থেকে বলে, কী কাজ করো? তারা বলে, ফ্রিল্যান্সিং করি। তারা না কেরানি, না অফিসার, না পুলিশ। অথচ তারা কেরানি বা অফিসারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কামাই করে। তারা ইংরেজি ভালো বলে। কিন্তু বিয়ে করতে পারছে না। সবাইকে বলেছেন, আপনারা চিন্তাভাবনা করেন, তারা এই যে কাজ করছে এর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি কীভাবে দেওয়া যায়। রেজিস্ট্রেশন পেতে পারে কি না, সদস্য হতে পারে কি না বা সার্টিফিকেট কেউ দিতে পারে কি না? বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে বললেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী)।’