রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণে সরকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি।’
গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে আশ্রিত ১১ লাখ রোহিঙ্গার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। তাই অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের জোর তৎপরতা চালাতে হবে। কারণ মানব ভোগান্তির এক নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত হচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর পড়ছে ভয়াবহ চাপ।
তিনি বলেন, ইতিপূর্বে কয়েকবার কয়েক হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর খবর প্রচারিত হলেও এর কোনো বাস্তব প্রতিফলন লক্ষ করা যায়নি। ‘লিপ সার্ভিস’ ছাড়া এ ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। কোনো অগণতান্ত্রিক সরকারেরই বিরাট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সামর্থ্য থাকে না।
এর আগে সকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার পতাকা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।’
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যেহেতু এদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন এবং এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দেশকে একটি সমৃদ্ধিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। গণতন্ত্রকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে দেশকে বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। এ কারণে আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তার অবদানকে খাটো করে দেখানোর জন্য ১৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে তাকে জড়ানোর একটি প্রচারণা-প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।