সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি নয়

মহামারী করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে ব্যাংকগুলোর মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের কিস্তি আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত না দিলেও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে হবে না এর গ্রাহকদের। এর আগে গত ২৪ মার্চ জারি করা সার্কুলারে চলতি জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঋণ শ্রেণিকরণে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। মহামারীর প্রকোপ দীর্ঘায়িত হওয়ায় আরও তিন মাস বাড়ানো হলো। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিশ্ববাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় গত ২৪ মার্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ/লিজ/অগ্রিম শ্রেণিকরণের বিষয়ে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছিল। এখনো কভিড-১৯-এর কারণে অনেকাংশে এসব ঋণগ্রহীতার পক্ষে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব লাঘবে গত ২৪ মার্চ জারি করা এ-সংক্রান্ত সার্কুলারের কার্যকারিতার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলো। এর ফলে এই সময় পর্যন্ত কোনো ঋণগ্রহীতা ঋণের কিস্তি না দিলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করবে না।

এ ছাড়া বিদ্যমান সব মেয়াদি (স্বল্প ও দীর্ঘ) ঋণ/লিজ/অগ্রিমের বিপরীতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রদেয় কিস্তিসমূহ ডেফার্ড হিসেবে বিবেচনাপূর্বক অক্টোবর থেকে সংশ্লিষ্ট ঋণ/লিজ/অগ্রিমের কিস্তির পরিমাণ ও সংখ্যা পুনঃনির্ধারিত হবে। অর্থাৎ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যতসংখ্যক কিস্তি বকেয়া থাকবে সমসংখ্যক কিস্তি বৃদ্ধিপূর্বক পরিশোধসূচি পুনঃপ্রণয়ন করতে হবে।

ঋণ, লিজ বা অগ্রিমের ওপর সুদ বা মুনাফা হিসাবায়নের ক্ষেত্রে এ-সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা বলবৎ থাকবে। তবে ওই সময়ে কোনো দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি/চার্জ/কমিশন (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আরোপ করা যাবে না।