কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার অভিযোগে আরও একটি ফৌজদারি দরখাস্ত জমা পড়েছে আদালতে। গতকাল বৃহস্পতিবার টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়নের পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়ার প্রয়াত আবদুল জলিল পুতুইক্যার স্ত্রী সানোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩-এ দরখাস্তটি জমা দেন। বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন আবেদনটি আমলে নিয়ে এ ঘটনায় আগে টেকনাফ থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না সে বিষয়ে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। সানোয়ারা বেগমের জমা দেওয়া এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর তার স্বামী আবদুল জলিলকে কক্সবাজার শহরের আদালতপাড়া থেকে আটক করে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়ুয়া। পরে হোয়াইকং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউরের মাধ্যমে তাকে টেকনাফ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘ক্রসফায়ার’ থেকে বাঁচাতে ওসি প্রদীপ গ্রেপ্তার আবদুল জলিলের স্ত্রী সানোয়ারা বেগমের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে স্বামীকে বাঁচাতে তিনি প্রদীপকে ৫ লাখ টাকা দেন। তবে আট মাস পর চলতি বছর ৭ জুলাই জলিল ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন। এ ঘটনায় স্বামী ‘হত্যার’ বিচার চেয়ে হোয়াইকং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউরকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন সানোয়ারা।
মামলার অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই আরিফুর রহমান, সুজিত চন্দ্র দে, ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়ুয়া, এসআই অরুণ কুমার চাকমা, নাজিম উদ্দিন ও নাজিমউদ্দিন ভূঁইয়া, এএসআই রাম চন্দ্র দাস, কনস্টেবল রুবেল শর্মা এবং দফাদার আমিনুল হক।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত শুনানি শেষে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না তা আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’
এপিবিএনের আরও ২ সদস্যের আদালতে স্বীকারোক্তি : অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) দুই সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্ত সংস্থা র্যাব তাদের কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করলে তারা স্বীকারোক্তি দেন। তবে জবানবন্দিতে বিচারকের কাছে তারা কী বলেছেন সে বিষয়ে জানা যায়নি।
স্বীকারোক্তি দেওয়া দুই এপিবিএন সদস্য হলেন এসআই শাহজাহান ও কনস্টেবল রাজীব। তাদের গতকাল দুপুর ১টার দিকে বিচারকের খাস কামরায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তারা সেখানে জবানবন্দি দেন। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় এপিবিএনের আরেক সদস্য কনস্টেবল মোহাম্মদ আবদুল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে।
শিপ্রার মামলায় রামু থানার ওসির ক্ষমা প্রার্থনা : সিনহা নিহতের পর তার সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলায় দুটি জব্দ তালিকা তৈরি এবং একটির সঙ্গে অন্যটির মিল না থাকার বিষয়ে আদালতের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন রামু থানার ওসি আবুল খায়ের। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোছাইনের আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এমএ বারী দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সিনহা নিহতের পর নীলিমা রিসোর্ট থেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ডিভাইস ও ২৯টি ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ তার সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। তখন পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ওই মামলায় শিপ্রা জামিনে রয়েছেন। তবে পুলিশের জব্দ করা মালামালের দুটি তালিকায় মিল না থাকায় আদালত রামু থানার ওসিকে তলব করে এবং এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে বলে। গতকাল ছিল ওই দিনের ধার্য তারিখ। আদালতকে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা দিতে না পারায় ওসি নিঃশর্তে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা।