বাজারে এলেই ভ্যাকসিনের জন্য বরাদ্দের পরামর্শ

বাজারে ভ্যাকসিন আসামাত্রই যাতে কেনা যায় এজন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দিয়েছে কভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিটির ১৮তম অনলাইন সভায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কভিড-১৯ টিকার (ভ্যাকসিন) ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পদক্ষেপ জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রকল্পে ভ্যাকসিন কেনার অর্থ বরাদ্দ রাখার নির্দেশনা রয়েছে যেন বাজারে আসামাত্রই ক্রয় করা যায়।

জাতীয় কারিগরি পরামশর্ক কমিটির ১৮তম সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা মো. শহীদুল্লাহ। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি যোগদান করেন। জাতীয় পরামর্শক কমিটির সব সদস্যের অংশগ্রহণে আরও কয়েকটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাওয়ার পর সারা দেশে বিতরণের পরিকল্পনা নিয়ে ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কাজ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে কারিগরি কমিটির পরামর্শ হচ্ছে, যেহেতু প্রথম পর্যায়ে দেশের গোটা জনগোষ্ঠীর জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে সে ক্ষেত্রে উচ্চঝুঁকির জনগোষ্ঠী বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে।

সভায় অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি সিদ্ধান্তে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে কী কী অ্যান্টিজেন পাওয়া যায় এবং কোন কোন কোম্পানির কাছে তা পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে পর্যালোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যেসব জেলায় কভিড-১৯ পিসিআর টেস্টের সুবিধা নেই এবং গত দুই সপ্তাহে কভিড-১৯ সংক্রমণের হার বেশি সেসব জেলায় অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা যায় বলে পরামর্শক কমিটি মত দিয়েছে। এছাড়াও যেখানে চিকিৎসা বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন সেসব হাসপাতালে অ্যান্টিজেন টেস্ট করা যেতে পারে। সভায় এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়।

কভিড-১৯ রোগীদের সেবাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে একটি চিঠি দিয়েছে। মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কিছু জানানো হয়নি। সম্মুখ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্র্তৃপক্ষের প্রতি এ সভা থেকে পুনরায় আহ্বান জানানো হয়।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শক কমিটির মতামত জানতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, কমিটির পরামর্শ তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবেন এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এতে আরও বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রী কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপসমূহ কমিটির সামনে উপস্থাপন করেন। কভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয় যা এখনো বন্ধ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের যেন পড়াশোনার ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে ২৯ মার্চ থেকে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

করোনা অব্যাহত থাকা অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাব্যতা ও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠান বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ বিষয়ে কমিটি বলেছে, এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।