রাজধানী থেকে কুকুর স্থানান্তরের প্রতিবাদে দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (পাও)। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাজধানী থেকে কুকুরের সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য প্রায় ৩০ হাজার কুকুর অন্য জেলায় পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল রাজধানীর ধানম-ির মূল সড়কের পাশে দেয়ালচিত্র অঙ্কন করে এই প্রতিবাদ জানায় তারা।
দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর কুকুরের উপকারী দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আজ ২৯ আগস্ট শেষ হবে তাদের এ অভিনব প্রতিবাদ।
প্রতিবাদকারীরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হলে কুকুরগুলো না খেয়ে মরবে। কারণ জেলা শহরগুলোতে কুকুরের কেউ দেখভাল করবে না। পাশাপাশি শহরে বেড়ে যাবে ইঁদুরের উপদ্রব। আর সরকারের যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ প্রকল্প তা-ও বৃথা হবে। এ ছাড়া স্থানান্তরিত হওয়ায় প্রাণীগুলোর অস্তিত্বও বিপন্ন হবে।
পাও ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাকিবুল হক এমিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসলে আমরা চেয়েছিলাম লকডাউনের পর নতুন পৃথিবীকে নিয়ে বাঁচব কিন্তু তা হচ্ছে না। মানুষ পুনরায় হিংস্র হয়ে উঠছে। কর্তৃপক্ষ যখন সিদ্ধান্ত নিল তারা নাগরিক প্রাণীগুলোকে শহর থেকে সরিয়ে ফেলবে সেটি কিন্তু ২০১৯ সালের যে আইন আছে তার পরিপন্থী। সেখানে ৭ নম্বর ধারায় পরিষ্কার বলা হয়েছে মালিকহীন কোনো কুকুরকে সরানো যাবে। তিনি আরও বলেন, একধরনের ভ্রান্তি থেকে এ সিদ্ধান্তগুলো আসে, আমরা সেই ভ্রান্তিগুলো দূর করতেই এই দেয়াল চিত্রাঙ্কন করছি যাতে করে সবাই ছবির ভাষা বুঝতে পারে। তা ছাড়া এভাবে কুকুর স্থানান্তর করলে সরকারের যে জলাতঙ্ক প্রকল্প আছে তা ব্যাহত হবে, পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি হবে।
দেয়ালচিত্র অঙ্কন করতে আসা স্বেচ্ছাসেবক রাজধানীর ভিকারুননেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফাইজা ফাইরুজ রিমঝিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসলে এ শহরের ওপর শুধু আমার একার অধিকার নয়, এ শহরের ওপর অধিকার সবার। আর আমরা আজকের এই দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে তাই প্রকাশ করছি।
স্যাটেলা অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নোনা আহমেদ বলেন, কুকুর নিধন বা সরিয়ে দেওয়া শহর থেকে এটা যে ঠিক না তার জন্য আমরা সচেতনতা তৈরি করছি দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে। আসলে কুকুর যে বাড়ছে এর সমাধান একটাই, তাদের বন্ধ্যাকরণ করা। তিনি আরও বলেন, এখন যারা শহরে আছে সরকার তাদের ভ্যাকসিনেট করেছে অনেক বার এবং আমরা নিজেরাও তাদের ভ্যাকসিনেট করেছি। সরকার এত বড় প্রজেক্ট নিয়ে ভ্যাকসিন দিল তাহলে সেগুলো বৃথা হয়ে যাবে। ১৮ আগস্ট ৩০ হাজার কুকুর শহরের বাইরের লোকালয়ে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের। তিনি বলেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কুকুরগুলোকে মাতুয়াইল এলাকায় স্থানান্তরিত করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে কুকুরগুলো খাবারের সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সেটা বাতিল করা হয়েছে। কুকুরগুলোর যাতে খাবারের সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য ঢাকার বাইরের জনপদ অর্থাৎ যেখানে মানুষের বসবাস রয়েছে, তেমন কোনো এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।