বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখনো সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আসেনি বলে মনে করে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট। দেশে বন্যা ও ডেঙ্গুর কারণে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা কম থাকায় অদূরভবিষ্যতে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ লাগামহীনভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে সাময়িকীটির এক প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের কভিড-১৯ পরীক্ষার সমালোচনা শীর্ষক ওই প্রতিবেদনটি আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রকাশিত হওয়ার কথা। সাময়িকীটির ৩৯৬ সংখ্যার ৫৯১ পৃষ্ঠায় ছাপা হবে অস্ট্রেলিয়ার লেখক সোফি কাজিনসের তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি।
করোনা পরীক্ষার জন্য সরকার যে ফি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদনে তার সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি চারজন মানুষের একজন দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। ফি নির্ধারণের (হাসপাতালে ২০০, বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ ৫০০) পর পরীক্ষার হার কমতে শুরু করেছে। আগে প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের মধ্যে ৮ জনের টেস্ট হতো। আগস্টে তা প্রতি ১০ হাজার মানুষে ৬ জনে নেমেছে।
বেসরকারি স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমিনেন্সের প্রধান শামীম তালুকদার দ্য ল্যানসেটকে বলেন, এই মহামারী বাংলাদেশের ‘অনৈতিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে’ উন্মোচিত করেছে। একদম শুরু থেকেই সরকার কভিড-১৯ টেস্টিং সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। এজন্য শুরুতে বেসরকারি খাতকে টেস্ট করতে দেওয়া হয়নি। এখন আবার ফি নেওয়া হচ্ছে। এতে গরিব মানুষেরা বাদ পড়ছে। তারা আর হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য আগের মতো আসছে না।
ল্যানচেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শামীম তালুকদার ঢাকার কয়েকটি কবরস্থান ঘুরে সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কবরস্থান পরিচালনাকারীরা তাকে বলেছেন, সরকারি হিসাবের চেয়ে দেশে চারগুণ বেশি মৃত্যু হচ্ছে। অনেকে উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন, কিন্তু করোনা পরীক্ষা হয়নি। অথবা পরীক্ষা হলেও তাদের রিপোর্ট আসছে মৃত্যুর অনেক পরে।
বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমানও টেস্টের জন্য ফি নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া সত্যি সমস্যা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গরিবদের জন্য টেস্ট করানো এখন কষ্টকর। মহামারীর সময়ে মানুষের কাজ নেই। টাকা নেই। এমন অবস্থায় সরকারের টাকা নেওয়া উচিত হচ্ছে না।
ঢাকার আরেকজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ল্যানসেটকে বলেন, ১৬৫ মিলিয়ন মানুষের দেশে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টেস্ট হচ্ছে, এটি আসলে কিছুই না। ওই চিকিৎসকের শঙ্কা এই মহামারী আরও অনেক দিন থাকবে। তিনি বলেন, আমি ভয় পাচ্ছি শীত এলে কী হবে। মানুষও ভয় পাচ্ছে।
শামীম তালুকদার বলেছেন, ‘সরকারের নজর এখন অর্থনীতির দিকে। কিন্তু কভিড-১৯ গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়বে। মারা যাবে আরও বেশি মানুষ।’ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক ব্যবস্থার ওপর প্রতিবেদন করে ২০১৯ সালে মেডিকেল জার্নালিস্ট’স অ্যাসোসিয়েশন থেকে পুরস্কার জেতা সোফির সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।