খুলনায় ঠিকাদারের ছোড়া গুলিতে আহত স্কুলছাত্রী

খুলনায় ঠিকাদারের ছোড়া পিস্তলের গুলিতে লামিয়া (১৩) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া আরাফাত জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় কয়েকজন ‘সন্ত্রাসীর’ সঙ্গে ঠিকাদার শেখ ইউসুফ আলীর বাগ্বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে ঠিকাদার ফাঁকা গুলি ছুড়লে স্কুলছাত্রী গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি ও ২ রাউন্ড গুলির খোসা জব্দ করেছে।

স্কুলছাত্রী লামিয়া নগরীর আরাফাত জামে মসজিদ এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল হোসেনের মেয়ে ও ইকবালনগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

এলাকাবাসী জানায়, মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা ঠিকাদার শেখ ইউসুফ আলী নগরীর বাবু খান রোডের সংস্কারের কাজ পেয়েছেন। এ কাজটি নেওয়ার জন্য কয়েকজন সন্ত্রাসী বেশ কয়েক দিন ধরে তাকে চাপ দিচ্ছে। তারা শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ইউসুফ আলীর বাড়িতে গিয়ে তাকে হুমকি দেয়। এ সময় ইউসুফ আলী সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে ২ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এর একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিপরীত দিকের বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলছাত্রী লামিয়ার বাম পায়ের ওপরের অংশে বিদ্ধ হয়।

খুমেকের সার্জারি ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, লামিয়া বর্তমানে খুমেকের সার্জারি ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত। লামিয়ার বাঁ পায়ের ওপরের অংশের সিমারে (থাই) গুলিটি বিদ্ধ হয়েছে। তবে এটি হাড়ে না লেগে মাংসের মধ্যে ঢুকে আছে। তাকে আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। শনিবার তাকে অর্থপেডিকস চিকিৎসককে দেখানো হবে। এরপর তার পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঠিকাদার শেখ মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে ৪ জন অপরিচিত সন্ত্রাসী তার বাসায় গিয়ে অস্ত্রের মুখে ফের চাঁদা দাবি করে। এ সময় তিনি ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।’

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। কেউ আটকও নেই। তবে এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার কানাই লাল সরকার বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ফলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।