‘রহস্যময়’ রোগ কভিড-১৯ প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে এখন আর অতটা রহস্যময় নেই। কীভাবে আক্রান্ত করে, কী হারে আক্রান্ত করে, কোন অঙ্গের বেশি ক্ষতি করে-তার প্রায় সবই জানা। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো এক ধাঁধার নাম।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বিবিসি জানিয়েছে, শিশুদের নাকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ভাইরাসটি থাকতে পারে। এর আগে একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, এমন অসংখ্য শিশু আছে যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি, দিচ্ছে না।
এইসব হিসাব-নিকাশের ভেতর বিজ্ঞানীরা এখনো বুঝতে পারছেন না, শিশুরা ঠিক কী হারে অথবা কতটা অন্যের শরীরে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।
ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রাসেল ভিনার বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, তিনটি ভিন্ন কিন্তু একে অপরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন আমাদের সামনে আসছে:
১. শিশুরা ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে?
২. কতটা মারাত্মকভাবে হচ্ছে?
৩. তারা কীভাবে অন্যদের শরীরে ছড়ায়?
প্রথম প্রশ্নের উত্তর ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর অনেক দিন পরিষ্কার ছিল না। সম্প্রতি একটি ব্রিটিশ গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন এই রোগটিতে শিশুরা প্রাপ্ত বয়স্কদের থেকে কম অসুস্থ হচ্ছে, তাদের অনেকের আবার কোনো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে না।
তৃতীয় প্রশ্ন নিয়েই যত বিভ্রান্তি।
দক্ষিণ কোরিয়ার ওই গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, যেসব শিশুর উপসর্গ নেই কিংবা অল্প ছিল তাদের নাকের সর্দিতেও তিন সপ্তাহ পর করোনা পাওয়া গেছে। এই ডেটা থেকে গবেষকেরা দাবি করছেন, শিশুদের শরীর থেকেও ভাইরাসটি দ্রুত ছড়াতে পারে।
কিন্তু বিবিসির বিশ্লেষকেরা বলছেন, শিশুদের নাকে ভাইরাস পাওয়া গেছে তার মানে এটা নয় যে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো তারাও একই হারে কভিড-১৯ ছড়ায়।
লিভারপুল ইউনিভার্সিটির শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ক্যালম সেম্পেল বলেছেন, ‘যাদের তেমন কোনো উপসর্গ (কাশি এবং হাঁচি) নেই তাদের সর্দিতে ভাইরাস থাকলেও ওইভাবে ছড়াতে পারে না। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রযোজ্য।‘
তবে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আছেন, যাদের শরীরে উপসর্গ কম থাকলেও প্রচুর হারে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: করোনা থেকে শিশুদের ডায়াবেটিস হতে পারে