দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী ফারজানা বেগমকে (৩২) শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বামী আসমত আলী (৪৫)। গতকাল শনিবার তদন্তসংশ্লিষ্ট তেজগাঁও বিভাগের পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার সকালে নাখালপাড়ায় আশা এনজিওর কার্যালয় থেকে এই দম্পতির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, আসমত ও ফারজানা দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। স্ত্রীর পরকীয়া সন্দেহের জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতের কোনো একসময় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আসমত নিজে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার সকালে তাদের লাশ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল তেজগাঁও থানায় এই দম্পতির ছেলে সিফাত একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার রুবায়েত জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই দম্পতির লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আসমত। পরে তিনি ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
তেজগাঁও থানার ওসি কামাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, লাশ উদ্ধারের আগে কক্ষটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল। কাজেই বাইরে থেকে গিয়ে কারও পক্ষে এ ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। তা ছাড়া ওই দম্পতির সন্তানরাও একই তথ্য দিয়েছে। লাশ উদ্ধারের স্থানের পারিপাশির্^ক অবস্থা ও আলামত বিশ্লেষণ করেও একই তথ্য পাওয়া গেছে।
ওসি আরও বলেন, সর্বশেষ সপ্তাহখানেক আগে ফারজানা তার স্বামীর কাছে তালাক চেয়েছিলেন। তারও আগে ফারজানা একাধিকবার স্বামী ও তিন সন্তান ফেলে পৃথক দুই ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এসব বিষয় নিয়েই তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বড় ছেলে সিফাত (১৫) আসমতকে নিয়ে মায়ের সঙ্গে মিটমাট করার জন্য আশার কার্যালয়ের ওই কক্ষে যায়। সিফাত বাবা-মাকে বুঝিয়ে বলেছিল, তোমরা যদি এমন করো, তাহলে আমাদের কী হবে। ছেলের এ কথা শুনে তারা দুজনই শান্ত হন। এরপর সিফাত চলে যায়। শুক্রবার সকালে দরজায় নক করে সাড়াশব্দ না পেয়ে দেয়ালে উঠে সে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে ফ্যানের সঙ্গে কেউ ঝুলে আছে। পরে পুলিশকে খবর দেয়।