অপ্রয়োজনীয়, সরে আসার আহ্বান বিএনপির

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন ২০২০ শিরোনামে নির্বাচন কমিশন যে সংশোধনী আনতে চাইছে সে বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার জোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে গতকাল দেশ রূপান্তরকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ইসির উদ্যোগ অপ্রয়োজনীয়। ইসির হাতে অনেক ক্ষমতা থাকলেও বিশেষ করে প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। ইসির উচিত এখান থেকে সরে আসা।’

গতকাল শনিবার বিকেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় নেতারা ইসির উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। এতে লন্ডন থেকে সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসি সরকারকে দিতে চায়। এটা ঠিক নয়। 

গত ১ জুলাই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে তাদের মতামত সংবলিত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিঠি ইসির সচিব মো. আলমগীরের কাছে দেন। ১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে খসড়া আইনটির ওপর মতামত জানানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানিয়েছিল নির্বাচন আয়োজনকারী এই সংস্থা।

বিএনপি ইসিতে দেওয়া চিঠিতে যা উল্লেখ করেছে : ‘প্রচলিত আইনের মৌলিক বিধানাবলি অক্ষন্ন রেখে ইংরেজির পরিবর্তে বাংলা ভাষায় প্রণয়নের উদ্যোগ’ আপাতত দৃষ্টিতে ভালো উদ্যোগ মনে হলেও উল্লিখিত মৌলিক বিধানাবলি অক্ষুন্ন রাখা হয়নি বলে এটা উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করে বিএনপি। তারা বলেন, সারা বিশ্ব যখন কভিড-১৯ মহামারীতে বিপন্ন, সরকারি নির্দেশে অফিস-আদালতের কাজকর্ম বন্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত এমন সময়ে এমন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অস্বাভাবিক, অগ্রহণযোগ্য এবং মহল বিশেষের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপকৌশল বলে আমরা মনে করি।

যে কোনো জনগুরুত্বসম্পন্ন নতুন আইন প্রণয়নে জনমত গ্রহণ, সংশ্লিষ্টদের অবারিত মত প্রদানের অধিকার এবং আইনের ভাষা ও শব্দচয়নে সতর্কতা গ্রহণ অতিশয় প্রয়োজনীয় পূর্বশর্ত। অথচ বর্তমান সময়ে এর কোনোটাই সম্ভব নয়।

বিশেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে ‘কমিশন’ এবং পদবিতে ‘কমিশনার’, রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, ভোট, ভোটার, ওয়ার্ড, ফরম, সিটি করপোরেশন...ইত্যাদির মতো ইংরেজি শব্দ অক্ষুন্ন রেখে জনগণের কাছে পরিচিত ও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সেসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নাম/পদবি পরিবর্তনের প্রস্তাব অনৈতিক ও অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করি।

বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক দলের নাম ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় রয়েছে, যেমন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, আওয়ামী লীগ, ফ্রন্ট, ফোরাম, ফেডারেশন ইত্যাদি।

বিএনপি মনে করে দেশে বিদ্যমান সংকটময় সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্টজনদের সঙ্গে সময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে মতামত গ্রহণ এবং জনমত সংগ্রহ করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব চূড়ান্ত করা উচিত হবে না বিধায় প্রাসঙ্গিক নতুন আইন প্রণয়নের কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইসি দল নিবন্ধনের জন্য যেসব সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে সেটা তুঘলকি কান্ড। একইসঙ্গে ইসিকে তাদের এই উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।