রেস্তোরাঁয় মেপে খেতে হবে চীনাদের

বিভিন্ন অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে খাদ্য নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছে পেইচিং। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খাওয়া কিংবা রেস্তোরাঁয় বেশি খাবার অর্ডারকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি খাবারের সময়গুলোকে নজরদারির আওতায় নিয়ে আসছে চীনা কর্র্তৃপক্ষ। কেন এ সিদ্ধান্ত? লিখেছেন পরাগ মাঝি

খাবার নিয়ে সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ

চীনা শহর সাংহাইয়ে নাগরিকদের মধ্যে কেউ যদি খাবার নষ্ট করে তবে তার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। দল বেঁধে যারা রেস্তোরাঁয় খেতে আসে তাদের একজনের সমপরিমাণ খাবার কম অর্ডার করতে বলেছে শহরের খাদ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গেলে ক্রেতাদের ওজন মেপে ভেতরে ঢুকানো হচ্ছে এবং ওজন অনুযায়ী তাদের কতটুকু খাদ্য গ্রহণ করতে হবে সে সম্পর্কে আগাম জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

উন্নত বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের মতো চীনেও খাদ্য নষ্ট করার প্রবণতা খুব বেশি। ২০১৫ সালে দেশটিতে যে পরিমাণ খাবার নষ্ট হয়েছে তা দিয়ে অন্তত ৩ থেকে ৫ কোটি মানুষকে সারা বছর খাওয়ানো সম্ভব। এই সংখ্যাটি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সম্মিলিতভাবে যত মানুষ আছে তারচেয়েও বেশি।

গত ১১ আগস্ট চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং খাদ্য নষ্ট করার প্রবণতাকে ‘বিস্ময়কর ও বিরক্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং এটি ঠেকানোর জন্য প্রচারণা অভিযান শুরু করেন। শুধু তাই নয়, খাদ্য নষ্ট করা ঠেকাতে আরও কঠোর নীতি অবলম্বন করতে যাচ্ছে চীন। দেশটির আইনপ্রণেতারা ঘোষণা করেছেন, শিগগিরই তারা এই প্রবণতার বিরুদ্ধে আইন পাস করতে যাচ্ছেন। এসব আইনকানুন অনলাইনে চীনের খাদ্য সম্পর্কিত ব্লগগুলোকে বিপদে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনে ‘খাদ্য’ একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। দেশটিতে ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে দুর্ভিক্ষে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। আর যারা বেঁচে গিয়েছিল তাদের এখনো তাড়া করে ফেরে সেই দুঃসহ স্মৃতি। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে আজকের দিনে চীনারা যখন যা চায় তাই খেতে পারে। খাবারে দেশটির একটি নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতেই চীনে সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি প্রবল। তার ওপর খাদ্য গ্রহণের সময়গুলোকে পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে। সিংঘুয়া ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক উ কিয়াং বলেন, ‘প্রতিদিন তিন বেলা খাবার সাধারণ মানুষের জন্য খুবই ব্যক্তিগত একটি ব্যাপার। এক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে উদাসীন একজন ব্যক্তিও তার খাদ্যের ওপর নজরদারিকে হুমকি হিসেবে দেখতে পারে।’

খাদ্য ও সম্পদ

অর্ধ শতাব্দী আগে চীনে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপন্ন হতো তা দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করাই খুব কষ্টকর ছিল। ফলে খাদ্য অপচয় রোধ করার জন্য দেশটিতে ‘খাদ্য রসিদ’ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এই রসিদ দিয়েই দেশটির সাধারণ মানুষ চাল, ডাল গমসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করত। ১৯৯৩ সালে ‘খাদ্য রসিদ’ ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয় চীন সরকার। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, সেই সময়টিতে খাদ্য ঘাটতির দিনগুলোকে অতিক্রম করে ফেলেছিল চীন। মানুষেরা যেমন খুশি খাওয়ার স্বাধীনতা পেয়েছিল।

চীনের অর্থনীতি বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির ফুলেফেঁপে ওঠা সম্পদের চিহ্ন তাদের ডাইনিং টেবিলেও দেখা যেতে শুরু করে। হাঙরের পাখনা কিংবা পাখির বাসার দুর্লভ স্যুপের মতো ব্যয়বহুল খাবার এখন অহরহই পাওয়া যায় সেখানে। দেশটির নববর্ষ ও ধর্মীয় উৎসব থেকে শুরু করে জন্মদিন কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে বহুমূল্যবান খাদ্য পরিবেশন এখন খুবই সাধারণ একটি ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। খাদ্যে বিলাসিতার মধ্য দিয়ে মানুষ এখন নিজের অবস্থান জানান দিতে চায়। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহকারী অধ্যাপক লি কুয়াং এ বিষয়ে বলেন, ‘একজন ব্যক্তি যত বেশি খাবার অর্ডার করেন তাকে তত বেশি অবস্থাসম্পন্ন ও সম্মানের চোখে দেখা হয়।’

কিন্তু এ ধরনের প্রবণতা প্রতি বছর চীনে বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, চীনে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টন খাবার নষ্ট হয়েছে।

চীনের জনসংখ্যা প্রায় ১৪০ কোটি। তারপরও দেশটির বিপুল এই জনগোষ্ঠী পশ্চিমা কয়েকটি রাষ্ট্রের চেয়েও উন্নত জীবন-যাপন করে বলে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ব খাদ্য টেকসই ইউনিট-এর ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে ৭২.৪ পাউন্ড সমপরিমাণ খাদ্য নষ্ট করে প্রত্যেক চীনা। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় বছরে জনপ্রতি ১৬৮ পাউন্ড খাদ্য নষ্ট হয়, আর আমেরিকায় প্রায় ২০৯ পাউন্ড। আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে কম হলেও নিজ দেশে খাদ্য নষ্ট হওয়ার পরিমাণটিকে খুব বেশি বলে মনে করছে চীনা কর্র্তৃপক্ষ। এজন্য দেশটিতে ফুলেফেঁপে ওঠা ফুড ক্যাটারিং ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে। বড় বড় শহরগুলোতেই এ সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি।

২০১৫ সালে চীনের অ্যাকাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুধু পেইচিং থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৮ হাজার টন আবর্জনা নিষ্কাশন করা হয়। এই আবর্জনার মধ্যে রুটি, স্যান্ডউইচ, ফাস্টফুড, মাছ ও মাংসের মতো না খাওয়া খাবারের একটি বিপুল অংশ থাকে।

তারপরও চীনে কভিড-১৯ সংক্রমণের শুরুর দিকে রেস্তোরাঁগুলোকে কম খাবার পরিবেশন করার নির্দেশ দেওয়া হলে তা বিতর্কের জন্ম দেয়। মহামারীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচিত উহান শহরের একজন রেস্তোরাঁ ব্যাবসায়ী ওয়াং। লকডাউনের কারণে তার রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিজের নামের প্রথম অংশ গোপন করে ওয়াং বলেন, ‘চীনের খাদ্যশিল্প এখনো মহামারীর ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য সংগ্রাম করছে। আর এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কম খাবার পরিবেশনের চাপ।’

ওয়াং আরও বলেন, ‘ক্রেতাদের বেশি বেশি খাবার অর্ডার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে রেস্তোরাঁগুলো? রেস্তোরাঁ মালিকরা তো চায় তাদের ব্যবসা ভালো হোক।’

নজরদারি

খাদ্যের ওপর নজরদারিকে সহজভাবে নিচ্ছে না চীনারা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সরকার ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। রাজনৈতিক আলোচনাকে কঠোরভাবে সেন্সর করার পাশাপাশি নাগরিকদের চলাফেরা ও কাজকর্মের ওপর নজরদারি করতে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্রেক করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের মধ্যেই দেশজুড়ে ২ কোটিরও বেশি নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরায় ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি। সাধারণ মানুষের চলাফেরায় নজরদারি করতে এটি বেশ কার্যকর। স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে শুরু করে প্রত্যেক দম্পতি কয়টি সন্তান জন্ম দেবে তাও কর্র্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছে।

প্রায় তিন দশক ধরে ‘খাদ্য’ ছিল দেশটির নজরদারির বাইরে থাকা খুব কমসংখ্যক বিষয়ের একটি। মানুষের যেমন খুশি খাবারের স্বাধীনতা ছিল। কিন্তু গত মাসের শুরুর দিকে দেশটির হ্যালংঝিয়াং প্রদেশের রাজধানী হারবিন সিটি কর্র্তৃপক্ষ সরকারি ক্যান্টিনগুলোতে ‘খাদ্য নষ্ট শনাক্তকরণ’ প্রক্রিয়া চালু করে। আর এটি চালু করতে ক্যান্টিনগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়। বর্জ্য ফেলার বাক্সে যারা উচ্ছিষ্ট না ফেলে খাবারই ফেলে দিচ্ছেন তাদের শনাক্ত করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে ক্যামেরায় যাদের ৩ বারের বেশি খাবার নষ্ট করতে দেখা যাবে, খাদ্য নষ্ট করার ফুটেজসহ তাদের নাম উল্লেখ করে লজ্জা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এক্ষেত্রে ক্যান্টিনগুলোতে ওই ভিডিও ফুটেজ নিয়মিত প্রচার করা হবে।

হারবিন সিটি ছাড়াও চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু কিছু স্থানীয় সরকার ‘খাদ্য নষ্ট করা’ শনাক্ত করার জন্য শহরজুড়েই নজরদারি ক্যামেরা ছড়িয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে সাংহাই শহরের পদক্ষেপটি আরও এক ধাপ ওপরে। নজরদারি ক্যামেরা তো আছেই, এর বাইরেও কেউ যদি খাবার নষ্ট করে কিংবা প্রয়োজনের বেশি খাবার খায় তবে তার সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য নাগরিকদের উৎসাহ দিচ্ছে সাংহাই কর্র্তৃপক্ষ। যদিও এ ধরনের অপরাধের জন্য কী শাস্তি দেওয়া হবে সে সম্পর্কে কোনো বক্তব্য প্রদান করেনি তারা।

খাদ্য ইস্যুতে নতুন আইনকানুন ও নজরদারিকে মাও সে তুং-এর আমলের সঙ্গে তুলনা করেছেন এক চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। তিনি বলেন, ‘যদি নিজের টাকা দিয়েই কিনে খাই তবে এ নিয়ে আমার নামে রিপোর্ট করা হবে কেন?’

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লিয়াওনিংয়ের একটি খাদ্য পরিবেশক সমিতি থেকে ক্রেতাদের ‘এন মাইনাস টু’ নীতি অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো রেস্তোরাঁয় যদি এক সঙ্গে বেশ কয়েকজন খাবার খেতে যায় তবে তাদের টেবিলে দুজনের সমপরিমাণ খাবার কম অর্ডার করতে বলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তটি অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। একজন লিখেছেন, “আমি জানতে চাই কোন শহর এবার ‘এন মাইনাস থ্রি’ ফর্মুলা প্রয়োগ করবে।”

চীনে খাদ্য সম্পর্কিত কিছু কিছু অনলাইন ব্লগ রয়েছে যেখানে দর্শকদের সামনে উপস্থাপক প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়। এ ধরনের ব্লগগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছে চীনা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলো। যে কোনো সময় এসব ব্লগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকিতে আছে। ল্যাংওয়েইজিয়ান নামে খাদ্য সম্পর্কিত এক চীনা ব্লগার আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে যার প্রায় ৪ কোটি অনুসারী রয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি তার প্ল্যাটফর্ম থেকে বেশ কিছু ভিডিও মুছে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ৯ মিনিটের মধ্যে ১০টি নুডলস প্যাকেট সাবাড় করে তিনি বেশ আলোচিত হয়েছিলেন।

কৃষি বিপর্যয়

চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের খাদ্য নষ্ট বিরোধী অভিযান শুরু করার প্রধান কারণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক বিভিন্ন কারণে দেশটির কৃষি খাত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কভিড-১৯ ভাইরাসটি আঘাত হানার আগে থেকেই ‘সোয়াইন ফিভার’ নামে আরও একটি মহামারী মোকাবিলা করছে চীন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শূকরের মাংসকে প্রধান খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৮ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চীনারা বছরে যে পরিমাণ মাংস খায় তার ৭০ ভাগই আসে শূকরের খামারগুলো থেকে। একজন চীনা প্রতি বছর গড়ে ২০ কেজি শূকরের মাংস ভক্ষণ করে। কিন্তু ২০১৯ সালে শূকরের খামারগুলোতে ‘সোয়াইন ফিভার’ মহামারী আকারে হানা দেয়। এ মহামারীর কবলে পড়ে দেশটির শূকরের সংখ্যা প্রায় ৪০ ভাগ কমে গেছে।

করোনাভাইরাস আঘাত হানার পর চীনের কৃষি খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বাজার পড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকের ফসল মাঠেই পচে নষ্ট হয়। এর মধ্যে অনেকেই আবার অর্থ ও চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ভাইরাসটি চীনে প্রথম হানা দিলেও ধীরে ধীরে তা অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এতে বিশ্বের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধও দেশটির সয়া শস্য ছাড়াও অন্যান্য খাদ্যপণ্য সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করে।

এদিকে, গত বসন্তে দেশটির ইয়াংজি নদীর দুই কূল প্লাবিত হয়ে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। এই বন্যায় দেশটির মধ্যাঞ্চলের ধান ও ভুট্টা শস্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এই ক্ষতি সামাল দিতে সরকারি শস্যভান্ডার থেকে কয়েক কোটি টন খাদ্য খালাস করতে হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন দুর্যোগের কথা বিবেচনা করেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং অনুধাবন করছেন, তার দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা উচিত। গত জুলাইয়ে তিনি চীনের জিলিন প্রদেশে সফর করেন এবং ওই অঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি খাদ্য নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

তবে বেশি খাবার না খাওয়া ও খাদ্য নষ্ট না করতে চীনা নজরদারিকে বাড়াবাড়ি বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কারণ দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতেই জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে খাওয়ানোর জন্য চীনে এখনো যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য মজুদ রয়েছে। দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চীনে বর্তমানে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে তা চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি।

হংকংয়ের চাইনিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উইলি লাম বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শি চিন পিং এমন এক সময়ে অভিযান শুরু করেছেন যখন লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিনের ঘরবন্দি জীবন থেকে বাইরে বেরুনোর জন্য অপেক্ষা করছেন অসংখ্য চীনা। কয়েক মাস পর বাইরে বের হয়ে তারা প্রাণ খুলে ঘুরে বেড়াবেন, ইচ্ছামতো খাবেন। কিন্তু এমন সময় খাবারে নিষেধাজ্ঞা হিতে বিপরীত ফল নিয়ে আসতে পারে।’