এপ্রিল-জুন প্রান্তিক

সবুজ অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কমেছে ১৭%

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন জানুয়ারি-মার্চ সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং সংক্রান্ত ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব কর্মকা-ে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এপ্রিল-জুন সময়ে ২ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৮১ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এ অঙ্ক ছিল ৩ হাজার ৫১ দশমিক ১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত প্রান্তিকে সবুজ অর্থায়ন কমেছে ৫১৩ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা। গত বছর জুলাই-সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এ খাতে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিতরণ করে যথাক্রমে ২ হাজার ২০ কোটি ও ৩ হাজার ৫১২ দশমিক ৫৫ কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সবুজ অর্থায়ন কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সবুজ অর্থায়ন বাড়াতে যথাযথ নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সহায়তাও ভূমিকা রাখছে। নবায়নযোগ্য জ¦ালানি, বিকল্প জ¦ালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের মতো বিষয়গুলো ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো মোট ঋণের ন্যূনতম ৫ শতাংশ সবুজ অর্থায়ন খাতে বিতরণ করতে পারে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ খাতে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৫০২ দশমিক ১৩ কোটি টাকা ও ব্যাংকবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানগুলো ৩৫ দশমিক ৬৮ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এ সময় ৩২ ব্যাংক ও ৪টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রিন ফিন্যান্সিং প্রজেক্ট ইস্যু করেছে।

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ২০১১ সালে ব্যাংকগুলোর জন্য গ্রিন ব্যাংকিং নীতি নির্দেশিকার পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার (ইআরএম) নির্দেশিকা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৪ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবুজ অর্থায়ন খাতে ন্যূনতম ৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গ্রিন ফিন্যান্সিংয়ে সর্বোচ্চ ঋণ বিতরণ করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যাংকটি ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে। এরপর রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক, এইচএসবিসি, ব্র্যাক ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এ সময় ব্যাংকগুলো সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ করেছে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৯৩, ৬ দশমিক ৭০, ৪ দশমিক ৩৪ ও ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

২০১৫ সালে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নির্মিত বা শক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা, বৃষ্টির জল সংগ্রহ এবং সৌরশক্তি প্যানেল স্থাপনের সঙ্গে তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার বাজেটের কমপক্ষে ১০ শতাংশ বরাদ্দ থাকা একটি ‘জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।