নীলফামারীতে অর্জিত হয়নি সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা। সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে বাজারে ধান-চালের দর বেশি হওয়ায় সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার অন্যতম কারণ বলছেন কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট চালকল মালিকরা।
নীলফামারী জেলা খাদ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছর জেলায় বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৬ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে এক হাজার ৬৭০ দশমিক ১২০ মেট্রিক টন।
উপজেলায় ভিত্তিক সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রায় জেলা সদরে ৬ ভাগ, সৈয়দপুরে ৯ ভাগ, ডোমারে ৩২ ভাগ, জলঢাকায় ৩ ভাগ, ডিমলায় ৮ ভাগ এবং কিশোরগঞ্জে ৩ ভাগ অর্জিত হয়েছে।
অপরদিকে চাল সংগ্রহ অভিযানেরও একই অবস্থা। জেলার ছয় উপজেলায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সিদ্ধ চাল ১৯ হাজার ৬১২ মেট্রিক টন এবং আতপ চালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৫৪ মেট্রিকটন।
এর বিপরীতে সিদ্ধ চাল অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ৯০৩ দশমিক ৩৫০ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৭৩৭ দশমিক ৫৫০ মেট্রিক টন। যার অর্জনের শতকরা হার সিদ্ধ চাল ৫১ ভাগ এবং আতপ চাল ৬৪ ভাগ।
উপজেলা ওয়ারী অর্জনের হারে দেখা গেছে, জেলা সদরে সিদ্ধ চাল ৫৮ ভাগ, আতপ চাল ১০০ ভাগ, সৈয়দপুরে সিদ্ধ চাল ৮২ ভাগ, আতপ চাল ৯২ ভাগ, ডোমারে সিদ্ধ চাল ৩৫ ভাগ, আতপ চাল শূন্য ভাগ, জলঢাকায় সিদ্ধ চাল ৪৮ ভাগ, আতপ চাল শূন্য ভাগ, ডিমলায় সিদ্ধ চাল ৪ ভাগ, আতপ চাল শূন্য ভাগ, কিশোরগঞ্জে সিদ্ধ চাল ৫৩ ভাগ এবং আতপ চাল শূন্য ভাগ।
নীলফামারী জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের ধুলিয়া গ্রামের কৃষক নিহার রঞ্জন রায় (৩৮) এবারে ২০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করে ধান পেয়েছেন ৩০০ মণ। সরকারি দামের সঙ্গে বাজার দরে ফারাক না থাকায় সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহের আগ্রহ ছিল না তার।
তিনি বলেন, ‘সরকার প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারেই সে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করতে গিয়ে পরিবহন খরচসহ নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। সেখানে একই দামে বাড়ি থেকে ধান নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।’
অপরদিকে ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ বাজারের চাল কল মালিক আশরাফ হোসেন এবারে চাল সরবরাহের বরাদ্দ পেয়েছেন ২১ মেট্রিক টন। তিনি এ পর্যন্ত সরবরাহ করেছেন ১০ মেট্রিক টন।
তিনি বলেন,‘বাজারে ধানের দাম বেশি। প্রতি কেজি ধান ২৬ থেকে ৩০ টাকা দরে ধান কিনে চাল তৈরি করা পর্যন্ত প্রতি কেজিতে খরচ পড়ছে ৪২ টাকা। সেখানে সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। এমন অবস্থায় সময়ের মধ্যে চাল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া বরাদ্দ পেতেও দেরি হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বরাদ্দ পেলে হয়তো পূরণ করা সম্ভব হতো।”
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বাজারে ধান-চালের দাম বেশি, সেটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার একটি কারণ হতেই পারে। কিন্তু চালকল মালিকরা আমাদের সঙ্গে চার মাস আগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ধানের দামও কম ছিল, সে সময়ে ধান কিনে তারা চাল সরবরাহ করতে পারতেন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ে চেষ্টা করা হবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার। অর্জিত না হলে মিলারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’