বিদেশি নিয়ে ফের নাটক

ফুটবল মৌসুম শুরুর আগে একটা নাটক মঞ্চস্থ করতেই হবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পোশাদার লিগ কমিটিকে। বিদেশি কোটা কমানো-বাড়ানো, থাকা-না থাকা নিয়ে এই নাটকটা বড্ড পরিচিত। সর্বশেষ অসম্পূর্ণ লিগ নিয়ে মোট ১৩টি লিগ বাফুফে মঞ্চস্থ করেছে। প্রতিবারই বিদেশি কোটা নিয়ে হয়েছে নতুন সিদ্ধান্ত। শেষ ছয় আসরে বিদেশি সংখ্যায় কোনোটির সঙ্গে কোনোটির মিল নেই। ঘরোয়া ফুটবল পেশাদার যুগে পা রাখার ১৩ বছর কেটে গেলেও বাফুফে বিদেশি কোটার বিষয়ে কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এবার তো পেশাদার লিগ কমিটির প্রধান সালাম মুর্শেদী ইঙ্গিত দিলেন বিদেশিহীন লিগের!

দলবদলের আগে ক্লাবগুলোতে আফ্রিকান ফুটবলারের মেলা বসে। সেখান থেকে পছন্দের ফুটবলার বেছে নেয় মধ্যম ও নিচের সারির ক্লাবগুলো। শিরোপায় চোখ রাখা দলগুলো অবশ্য এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকা থেকে ফুটবলার উড়িয়ে আনে সামর্থ্যরে জোরে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফুটবলারদের নামমাত্র বেতনে পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবানও হয় ক্লাবগুলো। মানে-গুণে পিছিয়ে থাকলেও স্থানীয় ফুটবলারদের বেতন বেশি। তাই মধ্যম ও নিচের সারির ক্লাবগুলোর ঝোঁক থাকে আফ্রিকানদের দিকে। আসছে মৌসুমে যদি সেই বিদেশি কোটাই উঠে যায়, তবে করোনাকালে ক্লাবগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে বলে মনে করেন শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু।

‘বিদেশি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সেটি হবে গত দু’দশকে ফুটবলের সবচেয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত। এবার সে অর্থে কোনো দলবদল নেই। ফুটবলাররা তাদের পুরনো দলেই খেলবে। গত মৌসুমের যে দল করেছিলাম, সেই দলের মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগ অনেকাংশেই বিদেশিনির্ভর ছিল। দলবদল যেহেতু নেই, নতুন ফুটবলারও ফেডারেশন জন্ম দিতে পারেনি; বিদেশি না থাকলে এই ঘাটতিগুলো কীভাবে পূরণ করব? এ অবস্থায় আমার দলের তো অবনমনের শঙ্কা থাকবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?’ বলছিলেন সাবেক তারকা ফুটবলার চুন্নু।

বিদেশি বাদ দেওয়ার বাফুফের পাঁয়তারার কথা শুনে রেগে আগুন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান। এএফসি কাপ এবং আসন্ন ঘরোয়া মৌসুমের জন্য এর মধ্যেই ক্লাবটি তিনজন লাতিন ফুটবলার চূড়ান্ত করেছে। এখন যদি ঘরোয়া ফুটবল হয় বিদেশি ছাড়া, তাহলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ক্লাবটিকে। বিদেশি কোটা নিয়ে ফি বছর বাফুফের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে চরম অপেশাদারিত্ব আখ্যা দিয়েছেন ইমরুল, ‘যখন যা মন চায়, তাই তারা (বাফুফে) করবে, এটাকে পেশাদারিত্ব বলা যায় না। মৌসুম শুরুর দু’মাস আগে তারা বলছে বিদেশি ছাড়া লিগ হবে। এটা কেমন ধরনের পেশাদার লিগ হলো? বাফুফেকে হুটহাট সিদ্ধান্তের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’ ইমরুল আরও বলেন, বিদেশি বাদ দিলে আর্থিক ক্ষতির দায় বাফুফেকে নিতে হবে, ‘বিদেশি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যদি হয়, তবে আমরা যে তিনজন বিদেশির সঙ্গে চুক্তি করেছি, তাদের এক বছরের বেতন বাফুফেকে দিতে হবে। তারা যদি সেটা না দেয়, তবে আমরা আদালতে যাব।’ মোহামেডানের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব সংখ্যা কমিয়ে হলেও বিদেশি রাখার পক্ষে, ‘আমাদের ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে কোটা কমিয়ে হলেও তারা বিদেশি রাখতে চায়। নইলে এই লিগের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই থাকবে না।’

বিদেশি কোটার মতো ফি মৌসুমে ভেন্যু বাড়ানো-কমানো নিয়েও নাটক করে সালাম মুর্শেদীর পেশাদার লিগ কমিটি। গত মৌসুমে সাত ভেন্যু করে ক্লাবগুলোর ওপর বাড়তি ব্যয় চাপিয়ে দেওয়া বাফুফে এবার সেটা তিনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। বাফুফের এই হুটহাট সিদ্ধান্ত বদল দেশের শীর্ষ লিগের পেশাদারিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।