আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের সমালোচনা গ্রহণ করেন বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী এমন একজন নেত্রী, তার সঙ্গে দীর্ঘদিন আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি দেখেছি তিনি কখনো গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান না। অনেক সময় গণমাধ্যম সমালোচনা করলেও তিনি সেই সমালোচনাটাকে গ্রহণ করেন। সঠিক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় তিনি সব সময় উৎসাহ প্রদান করেন। আমরা চাই বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করুক এবং গত ১০ বছর আমরা দেখেছি গণমাধ্যম কীভাবে উন্মুক্তভাবে কাজ করছে। এ জন্য গণমাধ্যম এখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে’।
মন্ত্রী বলেন, ‘উন্মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করার মানে এই নয় যে, আমরা নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র ও সঠিক ইতিহাসকে অপব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করব। স্বাধীনতা মানে এই নয় যে আমি লাগামহীন কথাবার্তা বা লেখালেখি উপস্থাপন করব। স্বাধীনতা হচ্ছে এটাই, যেটা মানুষকে অর্থবহ করে তুলে, মানুষকে আরো সমৃদ্ধ করে তুলে। আমি মনে করি গণমাধ্যমের এটাই পাথেয় হওয়া উচিত এবং সেই পথেই চলা উচিত’।
শনিবার দুপুরে বিরল প্রেস ক্লাবের ১ম তলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসব বলেন।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান গণমাধ্যম দেশপ্রেমিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের কোনো বিষয় নিয়ে কেউ যদি বিকৃতির চেষ্টা করে, সেখানে গণমাধ্যম কলম ধরছে। নতুন প্রজন্মের জন্য সুখবর হলো, গণমাধ্যমে এখন আর বিকৃত ইতিহাস লেখা না, এর কারণ হলো দায়িত্ব। এর আগে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চলছিল। বর্তমান সরকার স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত করতে সব সময়ই কাজ করে চলছে বলেই গণমাধ্যম এখন দায়িত্বশীল হয়েছে।’
প্রেসক্লাব সভাপতি এম এ কুদ্দুস সরকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পৌর মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগর, প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমা কান্ত রায়, আজীবন সদস্য ও রুপালি বাংলা জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আব্দুল লতিফ, সহসভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন প্রমুখ।