দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, ইমাম মুয়াজ্জিনসহ ২১ মুসল্লির মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন দগ্ধ মুসল্লিদের লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। লাশের তালিকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম।

গত শুক্রবার এশার নামাজ চলাকালীন বিস্ফোরণের পর ওইদিন রাত সোয়া ১টার দিকে জুয়েল নামে সাত বছর বয়সী আহত এক শিশুর প্রথম মৃত্যু হয়। তারপর থেকে গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন মসজিদটির ইমাম আবদুল মালেক ও মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেনসহ আরও ২০ মুসল্লির মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ নিয়ে ওই বিস্ফোরণে দগ্ধ মোট ২১ জনের মৃত্যু হলো।

সর্বশেষ গতকাল রাত ১০টার দিকে নাদিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জের ভোরের কথা নামে স্থানীয় একটি পত্রিকায় কাজ করতেন। এর আগে রাত পৌনে ৯টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন তল্লা মসজিদের ইমাম আবদুল মালেককে (৬০) মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। তারও প্রায় আধঘণ্টা আগে মিজানুর রহমান নামে আরেক মুসল্লি মারা যান। চিকিৎসকরা বলছেন, সেখানে চিকিৎসাধীন বাকি ১৬ জনের অবস্থাও গুরুতর। তাদের কেউই শঙ্কামুক্ত নন। যাদের শরীরের ৩০ থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত পুড়ে গেছে।

হাসপাতালে আসা হতাহতদের স্বজন ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, মৃত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ছিল তাদের পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কেউ কাজ করতেন পোশাক কারখানায়, কেউ করতেন টিউশনি, আবার কেউবা ছিলেন মাদ্রাসার ছাত্র। কেউ ঠিকাদারি করে সংসার চালাতেন। তল্লা মসজিদে বিস্ফোরণের পর গুরুতর দগ্ধদের শুক্রবার রাতেই ভর্তি করা হয় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। রাত থেকেই আহতদের স্বজনরা ভিড় করতে থাকেন ইনস্টিটিউটে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে গতকাল এসে পৌঁছান। প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন তারা। সর্বশেষ অবস্থা জানার চেষ্টা করেন। অনেকেই লাশ ঘিরে বিলাপ করছিলেন। আবার অনেকেই প্রিয়জন হারানোর শোক চেপে লাশ বুঝে পেতে ছিলেন তৎপর। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ বুঝে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন স্বজনরা।

গতকাল সকালে রাজধানীর বকশীবাজারে বার্ন ইনস্টিটিউটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে কড়া নিরাপত্তা। নিহত ও আহতদের অনেক স্বজন ফটকের সামনেই অবস্থান করছেন। এমনই একজন লাইজু বেগম। তার ভাই নিজাম পেদার (৩০) গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে সকালে ছুটে এসেছেন। কিন্তু ভাইকে এক নজর দেখতে পারেননি। তিনি জানান, নিজাম ভ্যান চালাতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। নিজামের স্ত্রী কুলসুম বেগম থাকতেন গ্রামের বাড়ি বরিশালে। সেখান থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে ছুটে এসেছেন তিনি।

ইনস্টিটিউটের মূল ফটক দিয়ে ঢোকার পর দেখা যায়, অনেকে নিচতলায় মরদেহ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। সেখানে বেলা ১১টার দিকে আহাজারি করতে থাকা আনোয়ার হোসেন জানান, তার ছেলে রিফাতকে (১৮) নিয়ে শুক্রবার রাতে এসেছেন। গতকাল ভোর ৬টায় রিফাত মারা গেছেএমন সংবাদ শুনতে পান। লাশ বুঝে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি জানান, দুই ছেলের মধ্যে বড় রিফাত নারায়ণগঞ্জ কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ত। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। রিকশা চালিয়ে ছেলেকে পড়ালেখা করাতেন।

ইনস্টিটিউটের ৫ম তলায় চিকিৎসাধীন ছিলেন দগ্ধরা। সেখানেই একটি কক্ষে কথা হয় শাহিন প্রধানের সঙ্গে। তিনি জানান, তার বাবা শামীম হাসান (৫৫) দগ্ধ হয়ে ভর্তি আছেন। শুক্রবার রাত থেকেই তারা এখানে অবস্থান করছেন। শামীমের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। নারায়ণগঞ্জ ডিসি অফিসে শিক্ষা শাখায় কর্মরত ছিলেন শামীম। পাশাপাশি বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল বায়তুস সালাত জামে মসজিদের হিসাবরক্ষক ছিলেন।

৫ম তলার একই কক্ষে থাকা বুলবুলি বেগম জানান, তার ছেলে নয়নের (২৬) দগ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে লালমনিরহাট থেকে এসেছেন। তিনি জানান, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নয়ন সবার বড়। নারায়ণগঞ্জে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত সে।

আরেক পোশাক শ্রমিক মো. কেনান। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায়। কেনানও ভর্তি আছেন বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে। তার ছোট ভাই মো. ইমরান বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকে হাসপাতালের নিচেই আছি। কিন্তু ভাইকে এখনো দেখতে পারিনি।’

নারায়ণগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহীম (৫০)। এশার নামাজ পড়তে তিনিও শুক্রবার রাতে মসজিদে যান। তার বড় ছেলে ফয়সালও মসজিদে ছিলেন। ছেলে নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হয়ে একশ গজ দূরে যান। এর মধ্যে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। হঠাৎ তার বাবার কথা মনে পড়ে। দৌড়ে মসজিদের সামনে যান।

ফয়সাল বলেন, ‘মসজিদের সামনে গিয়ে দেখলাম থাইগ্লাস ভেঙে আগুনের গোলা বের হচ্ছে। আগুনের গোলার সঙ্গে মানুষও বের হয়ে আসছে। দু’বার আগুনের গোলা বের হয়েছে। এরপর দেখি বাবাও রাস্তায় পড়ে আছে। দাড়ি, চুল, কাপড় সব পুড়ে গেছে, কিছু নেই। দ্রুত তাকে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে এখানে নিয়ে আসি।’

বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই ছেলে জুবায়ের (১৮) ও সাব্বিরের (২১) মৃত্যুর খবরে বিলাপ করছিলেন বাবা নূর উদ্দিন আর মা কুলসুম বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কুলসুম বেগম বলেন, ‘ঘটনার আধাঘণ্টা পর ছোট ছেলে দৌড়ে বাসায় ফিরে আমাকে জানায়, মসজিদে আগুন ধরেছে। এই কথায় বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। দৌড়ে মসজিদে গিয়ে জানতে পারি অনেক মুসল্লি আগুনে পুড়েছে। তখন পাগলের মতো সন্তানদের খুঁজতে থাকি। কিন্তু মসজিদের কোথাও ছেলেদের পাই নাই। পরে জানতে পারি আমার দুই ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। পরে রাতেই এখানে এসে সন্তানদের জন্য সারারাত অপেক্ষা করতে থাকি। আজ সকালে জানতে পারলাম, আমার বুকের ধনেরা বেঁচে নাই।’

বিস্ফোরণে আহত মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও তার বড় ছেলে জোনায়েদের (১৬) মৃত্যু হয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাঙ্গলকোট।

দগ্ধ আরেকজন রাসেলের (৩০) লাশের পাশে বসে বোন সুমাইয়া ও চাচির আর্তনাদ ভেসে আসছিল বার্ন ইউনিট থেকে। এর পাশেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিফাতের (১৮) বাবা আনোয়ার পুড়ে যাওয়া ছেলেটিকে একটিবার দেখতে কলেজের আইডি কার্ড নিয়ে সবার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। ৭২ বছর বয়সী বাবা হুমায়ন কবীরকে দেখার জন্য ইনস্টিটিউটের ৫ম তলায় কান্নাকাটি করছিলেন স্বজনরা। নিহত মোস্তফা কামালের বাবা করিম মিঝি (৭২) মেজ ছেলে ইউসুফ মিঝিকে নিয়ে ছেলের লাশ নিতে এসেছিলেন। বার্ন ইউনিটের লিফটের পাশে দেয়াল ধরে দাঁড়িয়ে নীরবে কাঁদছিলেন করিম মিঝি। ছেলের লাশ নিতে অপেক্ষায় ছিলেন মা রাহিমা বেগমও। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বুকের ধন আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেল? আমার সোনার সংসার তছনছ হয়ে গেল।’ কিশোর ছেলে মঈনুদ্দিনকে (১২) হারিয়ে বিলাপ করছিলেন মা মর্জিনা বেগম। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বার্ন ইউনিটের আশপাশে এভাবেই অনেকেই মরদেহ পাশে রেখে আহাজারি করছিলেন, আবার কেউবা মৃত্যুর সংবাদ শুনে। কেউ কেউ আবার লাশ বুঝে পেয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় কাঁদছিলেন।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়।

অন্য নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জোবায়ের (১৮) ও সাব্বির (২১) দুই ভাই। এছাড়া বাবা মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মারা যান ছেলে জুনায়েদ (১৬)। নিহত অন্য ১৩ জন হলেনমুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার হাটবুকদিয়া গ্রামের কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), চাঁদপুর সদর উপজেলার করিম মিজির ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জুলহাস ফরাজির ছেলে জুয়েল (৭), পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আবদুল খালেক হাওলাদারের ছেলে গার্মেন্টকর্মী মো. রাশেদ (৩০), নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকার হুমায়ুন কবির (৭২), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী গ্রামের মো. বেলায়েতের ছেলে জামাল আবেদিন (৪০) ও গার্মেন্টকর্মী ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), নারায়ণগঞ্জ নিউখানপুর ব্যাংক কলোনির কলেজশিক্ষার্থী মো. রিফাত (১৮), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শেখদী গ্রামের মৃত মহসিনের ছেলে মাইনুউদ্দিন (১২), ফতুল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে জয়নাল (৩৮), লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক পলাশী গ্রামের গার্মেন্টকর্মী নয়ন (২৭), মো. রাসেল (৩৪), ফতুল্লার তল্লার কাঞ্চন হাওলাদার (৫০) ও বাহাউদ্দিন (৬০)।

১৬ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর : চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ১৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই হস্তান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ পরিবারের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মরদেহের দাফন কাজ সম্পন্নের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার করে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সব মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়।

নাহিদা বারিক বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্ফোরণের কারণ জানা যাবে। সেই মোতাবেক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আহতদের কেউই শঙ্কামুক্ত নয় : আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ডা. ইমাম সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসাধীন সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। সবার শরীরের কমপক্ষে ৩০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হয়েছে। ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, যারা চিকিৎসাধীন তাদের কেউই শঙ্কামুক্ত নন। তাদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলা যায়।

দগ্ধাবস্থায় যে ১৭ জন চিকিৎসাধীন তারা হলেন ফরিদ, শেখ ফরিদ, মনির, আবুল বাশার মোল্লা, শামীম হাসান, মো. আলী মাস্টার, মো. কেনান, নজরুল ইসলাম, সিফাত, আবদুল আজিজ, নাসিম, হান্নান, আবদুস সাত্তার, জুলহাস উদ্দিন, আমজাদ, মামুন ও ইমরান। এদের সবার ৩০ থেকে ৬০ ভাগের বেশি পর্যন্ত পুড়ে গেছে।

বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, ৪টি তদন্ত কমিটি : মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার পর বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের একাধিক দল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, মসজিদে একসঙ্গে ৬টি এসির বিস্ফোরণের যে কথা বলা হচ্ছে তা অনুমাননির্ভর। কারণ বিস্ফোরণের পর ফ্লোরে জমে থাকা পানিতে গ্যাসের যেভাবে বুদবুদ উঠতে দেখা গেছে তাতে মনে হয়েছে মসজিদে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস জমেছিল। মসজিদটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকায় বাতাস প্রবেশ নির্গমনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে গ্যাস জমেছিল। এশার ফরজ নামাজ আদায়ের পরপরই কেউ একজন ফ্যান বন্ধের সুইচ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সুইচের স্পার্কিং থেকে আগে থেকেই জমে থাকা গ্যাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে এসির কম্প্রেসারগুলোর বিস্ফোরণও ঘটেছে।

মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল এ ঘটনায় আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। সে কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববিকে। অন্যদিকে তিতাসের জেনারেল ম্যানেজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের মো. আব্দুল ওয়াহাব তালুকদারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং তিতাসের দুটি কমিটিই পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে বলে জানানো হয়েছে।

গতকাল দুপুরে হাসপাতালে আহতদের দেখতে এসে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এসি বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে হলেও বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মসজিদে কী কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, সেটি বের করার চেষ্টা চলছে। মসজিদের নিচে তিতাস গ্যাসের লাইন রয়েছে, যা টাইলস দিয়ে ঢাকা ছিল।’

জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ধারণা ফায়ার সার্ভিসের : জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। মসজিদের মেঝের নিচ দিয়ে তিতাসের গ্যাসের লাইন গিয়েছে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘মসজিদের মেঝের নিচ থেকে তিতাস গ্যাসের একটি লাইন গিয়েছে। মসজিদের ভেতর গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’