যুক্তরাষ্ট্রে আর ক’দিন পরেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবির তহবিল সংগ্রহে ব্যস্ত। তহবিলের টাকা দিয়েই নির্বাচনী প্রচারণার যাবতীয় ব্যয় করা হয়। কিন্তু রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী তহবিলের টাকা তুলে নিজের আইনি লড়াইয়ের বিল পরিশোধ করছেন, এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক নারী যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যে মামলা হয় তার আইনি খরচের জন্য দশ লাখ ডলার দরকার হয় ট্রাম্পের। প্রেসিডেন্ট ওই অর্থ নিজের ব্যবসা থেকেও দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে নির্বাচনী তহবিল থেকে নিয়েছেন। ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন দলের আইনজীবীরা ওই মামলা মেটাতে মোট পনেরো লাখ ডলার ব্যয় করেছেন।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও তার ক্যাম্পেইন সংশ্লিষ্টরা নিজেদের সুবিধার্থে একদল আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। আইনজীবী ছাড়াও এই বিশাল বহরে আছেন দেহরক্ষীরা। দ্য রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের আইনি বিলের পেছনে পঁচিশ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন, যার নথি নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে রয়েছে বলে দাবি সংবাদমাধ্যমটির। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুসারে ট্রাম্পের আয়কর সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করার নিয়ম। কিন্তু এই আইনটিকে রুদ্ধ করতে ট্রাম্প রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি থেকে আঠারো লাখ ডলার তুলেছেন আইনি লড়াইয়ের খরচ হিসেবে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের টালি হিসেবে, ট্রাম্প ও তার সংশ্লিষ্টরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে আইনি লড়াইয়ের জন্য অন্তত ৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন রিপাবলিকান নির্বাচনী তহবিলের। ট্রাম্পের তুলনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৭ সালে আইনি লড়াইয়ের পেছনে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির ফান্ড থেকে ব্যয় করেছিলেন এক কোটি ৭ লাখ ডলার। ওবামার আগের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আরও কম অর্থ ব্যয় করেছিলেন।
ট্রাম্প যে শুধু আইনি লড়াইয়ের পেছনেই এই বিপুল পরিমাণ জনতহবিল ব্যয় করেছেন তা নয়। বিগত নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত ইস্যুতে যে তদন্ত ও ইমপিচমেন্টের মুখে পড়েছিলেন সেই খরচও তিনি নিয়েছিলেন তহবিল থেকে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সমর্থকরা এই অর্থ দিয়ে আসছেন পার্টির সার্বিক ব্যয় পরিচালনার জন্য।
তবে ট্রাম্প তার আইনি ও ব্যক্তিগত কাজে পার্টি ফান্ড থেকে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছেন তার সঠিক অংক জানা সম্ভব নয়। কারণ পার্টির নিজস্ব হিসাব ও আইনি বিষয় নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো ব্যবস্থার মধ্যে পড়ে না। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই ব্যয় জানা সম্ভব নয়, যদি না রিপাবলিকান কমিটি তা প্রকাশ না করে।