মসুর ডালের খেতে অতিরিক্ত কীটনাশক দিয়েছিলেন কৃষক। আর সেই ডাল খেয়ে মারা পড়েছে ৩১ টি পাখি। পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার জগাতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের কথা স্বীকার করেছেন গোলাম হোসেন নামের ওই কৃষক। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চেয়ে, এ রকম আর করবেন না বলে তিনি মুচলেকাও দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় বেশ প্রভাবশালী হিসেবেই পরিচিত গোলাম হোসেন। শনিবার বিকেলে ফসলের খেতে তিনি অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এতে শস্য খেতে আসা পাখিরা প্রাণ হারায়।
তবে সাংবাদিকদের কাছে গোলাম হোসেন দাবি করেন, পাখিদের মারার উদ্দেশ্যে নয়, বরং পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতেই কীটনাশক প্রয়োগ করেন তিনি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ভাঙ্গুরা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হক জানান, ফসলের খেতে পাখির আক্রমণ ঠেকাতেই অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করেন ওই কৃষক। পরে নিজের কৃতকর্মের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চান গোলাম হোসেন।
ভাঙ্গুরার প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পাখিরা প্রকৃতিরই একটি অংশ, অকারণে তাদের মেরে ফেলার অধিকার কারুর নেই। অভিযুক্ত কৃষক পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ আর কখনো করবেন না বলে আমাদের কাছে মুচলেকা দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, মুচলেকা দেয়ার পর গোলাম হোসেনকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরই মধ্যে খেতে পানি দিয়ে অতিরিক্ত কীটনাশক ধুয়ে ফেলা হয়েছে। অন্য কৃষকদেরও এমন কাজ না করতে সতর্ক করা হয়েছে।
মৃত পাখিদের গ্রামেই মাটি চাপা দেয়া হয়।