পাবনার সুজানগরে জলাশয়ে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের ভাটিকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন ভাটিকয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রাকিব (২৭), শাহাদত হোসেনের ছেলে রাজিব খান (৩০), মৃত মানিকের ছেলে উজ্জ্বল (৩২), আবদুল বাতেনের ছেলে রায়হান (৩২), মো. হোসেনের ছেলে জিন্নাহ সর্দার (২৭), হাসেন আলীর ছেলে সেলিম (২৬), শাহিন (২৪) ও শাকিব (২০), ইব্রাহিমের ছেলে রফিকুল (৩২), রশিদুল ইসলাম রাশু (৪০), মতিনের ছেলে পেয়ারা (৩৮), মৃত হাকিমের ছেলে আমজেদ (৩২) ও সিদ্দিকের ছেলে আমির (৩৩)। অন্যদের নাম জানা যায়নি।
গুলিবিদ্ধ রাশু জানান, গ্রামে একটি জলাশয়ে মাছ চাষ করা নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা খাইরুল মাস্টারের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাবের সমর্থক ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহীনের দ্বন্দ্ব চলছিল। সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে জলাশয়ের স্বত্ব নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়। গতকাল সালিশের সিদ্ধান্ত না মেনে শাহিনের পক্ষের লোকজন জোরপূর্বক মাছ ধরতে এলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিন ও তার লোকজন অতর্কিতে তাদের ওপর গুলি চালায়। এত কমপক্ষে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াহাবের প্রত্যক্ষ মদদে রানীনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহিন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। রবিবার সভাপতির নির্দেশেই জোরপূর্বক জলাশয়ের দখল নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায় শাহিন। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানিয়েছি।’
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াহাব। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বিএনপি-জামায়াতের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে জলাশয়টি অবৈধ দখলে রেখেছিল। আওয়ামী লীগের লোকজন সেখানে মাছ ধরতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাদের মারধর করলে সংঘর্ষ হয়। সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান দলে গ্রুপিং সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন।’
আমিনপুর থানার ওসি মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জলাশয়টি দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাটিকয়া গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।