৮৫ লাখ টাকার চাল আত্মসাৎ: কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় ৮৫ লাখ টাকার সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে পরস্পর যোগসাজশে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯০ দশমিক ৪৪২ মেট্টিকটন সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে আনা হয়েছে।

দুদুকের দায়েরকৃত মামলার আসামিরা হলেন-কুতুবদিয়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরী, খাদ্য গুদামের খন্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. শাহজাহান ওরফে মিন্টু, নিরাপত্তাকর্মী নিজাম উদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের স্প্রেম্যান মো. শাহজাহান (বর্তমানে কুতুবদিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দফতরে নিযুক্ত), মেসার্স হিমায়ন সি-ফুডসের মালিক ও কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার শিকদার মহল এলাকার জানে আলমের স্ত্রী দিলরুবা হাসান এবং মেসার্স মোহনা এন্টারপ্রাইজের মালিক ও শহরের ঝাউতলা গাড়িরমাঠ এলাকার মাস্টার শফিকুর রহমানের ছেলে পরিবহন ঠিকাদার মো. সেলিম রেজা।

সোমবার দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ (কক্সবাজার) এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেছেন। এরই মধ্যে মামলার প্রধান আসামি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯০ দশমিক ৪৪২ মেট্রিক টন সরকারি চাল, যার বাজার মূল্য ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা আত্মসাৎ করেন আসামিরা। কুতুবদিয়া উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব চাল গায়েব করা হয়েছে। 

জানা যায়, কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আফিফ আল মাহমুদ ভূঁইয়া গত ২৯ জুলাই কুতুবদিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। দুদকের তফসিলভুক্ত বিধায় অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠায় কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। ২১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ দিনে পরিবহন ঠিকাদার দিলরুবা হাসান ও সেলিম রেজার মাধ্যমে কক্সবাজার সদর এলএসডি থেকে ৩০২ দশমিক ৬৭৯ মেট্রিক টন চাল বড়ঘোপ খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৯০ দশমিক ৪৪২ মেট্টিক টন সরকারি চাল গায়েব করে দেন আসামিরা।