দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা মামলার পুলিশি তদন্তে আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ বাহিনীর প্রতি আমাদের আস্থা আছে, আমাদের বিশ্বাস সঠিক যে বিষয় সেটা তদন্ত করে পুলিশ বাহিনী বের করে আনবে। আমরা একটি ন্যায়বিচার পাব। আশা করি, যারা দোষী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে ছাদবাগান উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুল ওয়াহাব ভূঞা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কাজটা করছে, এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। আপনারা জানেন এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। কোনো মামলা বা কেস যদি হয় এটা তদন্ত করার দায়িত্ব পুলিশের। এটা অন্য কেউ তদন্ত করতে পারে না। ইনভেস্টিগেশনের এক্সক্লুসিভ দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, তথা আমাদের দেশের পুলিশ বাহিনীর।’
ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তদন্ত করে যাচ্ছেন। তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসবে আসল অপরাধী কারা। সেই সঙ্গে আসল অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে তাদের সাজা দেওয়া হবে।’
প্রশাসনিক তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের বিষয়টা প্রশাসনিক। এটা পুলিশের তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আমরা নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারি। ইতিমধ্যে আপনারা জানেন, প্রত্যেকটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা হয়েছে।’
ইউএনও ওয়াহিদার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুল ওয়াহাব ভূঞা বলেন, ‘ডাক্তারদের ভাষ্যমতে, শারীরিকভাবে তিনি সুস্থ হচ্ছেন। তবে ফাইনাল কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি। আগামীকালকে (বুধবার) একটি বোর্ড বসবে, সেখানে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরব আছেন এবং তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে তার (ওয়াহিদার) চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা করা হয়। সেভাবেই চিকিৎসকরা কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা আশা করছি, তিনি সুস্থ হয়ে জনগণের সেবা করবেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করবেন।’
দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদবাগান উদ্বোধন করার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সানিউল ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আসিফ মাহমুদ প্রমুখ।