পেইচিং ও ওয়াশিংটন একে অপরের মিডিয়াগুলোকে টার্গেট করছে। সম্প্রতি পেইচিং কর্র্তৃপক্ষ তাদের দেশে কর্মরত মার্কিন মিডিয়াকর্মীদের ভিসার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এই নতুন বিধিনিষেধের ফলে দুদেশের সম্পর্কে আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পর চীনের কর্র্তৃপক্ষের হাতে আটক হতে পারেন, এ ভয়ে তড়িঘড়ি নিজ দেশে পাড়ি দিয়েছেন দুই অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক। পেইচিং ও ক্যানবেরার মধ্যে পাঁচ দিনের কূটনৈতিক টানাপড়েন শেষে অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল ব্যুরোর চীন প্রতিনিধি মাইকেল স্মিথ ও অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের প্রতিনিধি বিল বার্টলস গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিডনিতে গিয়ে পৌঁছান বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
স্মিথ ও বার্টল যে দুই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তারাই তাড়াহুড়ো করে দুই সাংবাদিকের জন্য ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছিলেন। এ দুজনই ছিলেন চীনে কাজ করা অস্ট্রেলীয় সংবাদ মাধ্যমের শেষ দুই প্রতিনিধি।
কয়েকদিন আগে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাংহাই ও পেইচিংয়ে স্মিথ ও বার্টলসের বাসায় আচমকা হানা দেওয়ার পর থেকেই এই দুই সাংবাদিক আটক হওয়ার আতঙ্কে ভুগছিলেন। কূটনৈতিক দরকষাকষি শেষে পেইচিং তাদের ওপর থেকে চীন ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তারা অস্ট্রেলিয়া রওনা দেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর প্রায় একই সময়ে চীনের নিরাপত্তা বাহিনীর সাত কর্মকর্তা সাংহাইয়ে স্মিথ এবং পেইচিংয়ে বার্টলসের বাসায় নোটিস ছাড়াই হাজির হন। তারা দুই সাংবাদিককে চীনে জন্ম নেওয়া অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক চেং লি সংক্রান্ত নানান প্রশ্ন করেন বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ। চীনের সিজিটিএন টেলিভিশনের বিজনেস নিউজ উপস্থাপক চেং-কে চলতি বছরের আগস্টে আটক করা হয়েছিল।
স্মিথ ও বার্টলস এ বিষয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন করেছিলেন। চেং যে দীর্ঘদিন ধরে ‘আবাসিক নজরদারি’তে ছিলেন তাদের প্রতিবেদনে তাও জানানো হয়েছিল। এই ‘আবাসিক নজরদারি’ অবস্থায় চীনের কর্র্তৃপক্ষ যে কাউকে ছয় মাস পর্যন্ত আটকে রাখতে এবং আত্মীয়-স্বজন ও আইনজীবীর কাছ থেকে দূরে রাখতে পারে। চীনের কর্র্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত চেংয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না আনলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কাজ করা এ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।