বন্ধ রেস্টুরেন্টে খাওয়ার বিল দেখিয়ে দেড় লাখ টাকা তুলল উপজেলা হাসপাতাল!

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা হাসপাতালে ভুয়া ভাউচারে খাবার বিল তৈরি করে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫শ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মে ও জুন মাসে হাসপাতালের ৭ জন কর্মী এই টাকার খাবার খেয়েছেন। আর তারা যে রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছেন দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে ওই রেস্টুরেন্ট করোনার কারণে উল্লেখিত দুই মাসই (মে ও জুন) বন্ধ ছিল। কিন্তু সেই রেস্টুরেন্টের মেমোতে বিল তৈরি করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে খোদ রেস্টুরেন্ট মালিক আবদুল মান্নান বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

লিখিত অভিযোগে আবদুল মান্নান উল্লেখ করেছেন, করোনা মহামারির কারণে গত মে ও জুন মাসে কানাইঘাট উপজেলা সদরের সকল রেস্টুরেন্টের মতো তার মালিকানাধীন দুইটি রেস্টুরেন্ট নিউ পানসী রেস্টুরেন্ট এবং নাঈম ও ফাহিম রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। কিন্তু মে ও জুন মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭ জন স্টাফ নাঈম ও ফাহিম রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছেন দেখিয়ে রেস্টুরেন্টের ভুয়া ক্যাশ মেমোতে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫শ টাকা বিল তৈরি করেছেন।

এমনকি আবদুল মান্নানের স্কুলপড়ুয়া ছেলে নাঈমকে রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক দেখিয়ে তার জাল সীল-সাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। উক্ত ভুয়া বিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. শেখ শরফ উদ্দিন নাহিদ ও অফিস সহকারী শামীম আহমদ সাক্ষর করে টাকা উত্তোলন করেছেন।             

অভিযোগে আবদুল মান্নান বলেছেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করে যাচ্ছি। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ আমার রেস্টুরেন্টের নাম ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অপকর্ম করেছেন। আমি এই অপকর্মের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

অভিযোগের অনুলিপি সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও আবদুল মান্নান জানিয়েছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. শেখ শরফ উদ্দিন নাহিদের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিয়েও তা বন্ধ পাওয়া যায়। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।