শতকোটি টাকার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার সেই যুবলীগ নেতা সুজনসহ গ্রেপ্তার ৬

জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে একটি পরিবারের প্রায় শতকোটি টাকার সম্পত্তি দখলের অভিযোগে কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু করে গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। যুবলীগ নেতা সুজনের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন জমি জালিয়াত চক্রের সদস্য কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়া এলাকার খন্দকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. ওবায়দুল ওরফে মিন্টু খন্দকার (৬০), কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে মো. মিলন হোসেন (৩৮) এবং মিন্টু খন্দকারের বোন লাহিনী দাসপাড়ার বাসিন্দা সাত্তার শেখের স্ত্রী ছানোয়ারা খাতুন (৫০) ও আরেক বোন খন্দকার আবদুল আজিজেরর স্ত্রী মোছা. জাহানারা খাতুন (৪৫)। গ্রেপ্তার অন্যজন হলেন পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্রেতা মহিবুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত দুদিন ধরে সুজনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার এড়াতে সুজন আত্মগোপনে চলে যান। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করা হয়।

২০১৭ সালের ১৫ মে কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয় আশরাফুজ্জামান সুজনকে। তিন মাস মেয়াদের ওই কমিটিকে সব ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের পর পূর্ণাঙ্গ শহর কমিটির জন্য সম্মেলন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সম্মেলন করতে পারেনি তারা। এর মধ্যেই গত রবিবার সন্ধ্যায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কুষ্টিয়া শহর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। কারণ হিসেবে বলা হয়, সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে যাওয়া। তবে যুবলীগের অনেক নেতাকর্মী বলছেন, আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে শহরের একাধিক স্থানে জমি ও বাড়ি দখলের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তির পরই গতকাল আটক হলেন সুজন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি গোলাম মোস্তফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুজনসহ একটি চক্র প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জালিয়াতি করে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করেছিল।’

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েকটি টিভি চ্যানেলে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে অন্যের জমি কেনাবেচা ও দখলসংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে ধরায় বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কুষ্টিয়া শহরের এন এস রোডের বাসিন্দা এমএম ওয়াদুদের করা জালিয়াতি মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক অপরাধে জড়িত এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করলে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কমিটি প্রেরিত চিঠিতে শহর যুবলীগের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সে কারণে বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনের কোনো অপরাধের দায় যুবলীগ বহন করবে না।’