কাদেরের বক্তব্য জাতির সঙ্গে তামাশা : ফখরুল

‘শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন’আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা হাস্যকর। আমরা মনে করি যে, এই ধরনের কথা বলা মানে হলো জাতির সঙ্গে তামাশা করা। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল সকালে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এর জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে একটা জনগণের পার্লামেন্ট নির্বাচিত করুন, একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটা নির্বাচন দিন। সেই নির্বাচনে দেখা যাবে যে, কারা সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধি, কারা জনগণের প্রতিনিধি নয়। সত্যিকারের বিরোধী দল বলতে কি বোঝায়।’

তিনি আরও বলেন, “একাদশ জাতীয় সংসদ ‘রাবার স্ট্যাম্প’ সংসদ। আওয়ামী লীগ ১৯৭২ থেকে ৭৫ সালে যেভাবে পার্লামেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল ঠিক একই কায়দায় আজকেও তারা পার্লামেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিএনপিদলীয় সাংসদদের অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা (সরকারি দল) প্রতারণা করছে জনগণের সঙ্গে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা যে প্রশ্ন দিচ্ছেন সেই প্রশ্ন বদলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা চিন্তাও করা যায় না। যেখানে শপথ নেওয়া হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী। আজকে স্পিকার, পার্লামেন্টের সেক্রেটারিয়েট যদি এই প্রতারণার সঙ্গে, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয় তাহলে তা হবে সংবিধান লঙ্ঘন। এর মানে হচ্ছে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ।’

এর আগে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ‘আমরা বলতে চাই, সংসদে জমা দেওয়া ৭টা প্রশ্ন মূল প্রশ্ন তালিকায় বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুয়ায়ী সংসদ সদস্য যে প্রশ্ন জমা দেবেন, সেই প্রশ্ন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার চাইলে গ্রহণ করতে পারেন বা বাদও দিতে পারেন। সেই এখতিয়ার তাদের আছে। কিন্তু প্রশ্ন বিকৃত করার কোনো রকমের কোনো ক্ষমতা সংসদের নেই।’

তিনি বলেন, ভোট জালিয়াতি, ব্যাংক জালিয়াতি, টাকা পাচারের জালিয়াতির পর জালিয়াতি এখন সংসদেও ঢুকে গেছে। সরকারি দলের সাংসদ ৮-১০টি প্রশ্ন জমা দিলে তাদের সব প্রশ্নই গ্রহণ করা হলেও তার জমা দেওয়া ৪০-৫০টা প্রশ্ন থেকে মাত্র ৬-১০ প্রশ্ন আসে বলে অভিযোগও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির হারুন অর রশীদ, জি এম সিরাজ, সাংসদ আমিনুল ইসলাম ও জাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। একাদশ সংসদে বিএনপির আসন সংখ্যা ৭টি।