মসজিদে বিস্ফোরণ

ক্ষতিগ্রস্তদের ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার একটি মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩৭ জনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় আদেশ প্রাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে এ টাকা দিতে হবে। বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় দগ্ধ ও নিহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করে। বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩৭ পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ও নারায়ণগঞ্জের বায়তুস সালাত জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটিসহ ১৩ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত শুক্রবার ওই মসজিদে এশার নামাজের সময় বিস্ফোরণের পর দগ্ধ ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে গতকাল পর্যন্ত ২৮ জন মারা গেছেন। দগ্ধদের মধ্যে একজন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। ৮ জনের অবস্থা এখনো সংকটজনক। ফায়ার সার্ভিস বলছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওই মসজিদের গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বদ্ধপরিবেশে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জনস্বার্থে গত সোমবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী মার-ই-য়াম খন্দকার। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর-উস সাদিক। অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে আদালত এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সাত দিনের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে তিতাস কোম্পানিকে নির্দেশের পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নে রুল জারি করেছেন।’ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনার দায় আসলে কার, সে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ঘটনা উদঘাটনে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এখনো দায় নিরূপণ করেনি।