ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকা থেকে নিখোঁজের সাত দিনের মাথায় গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ফুলবিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে অপহরণের অভিযোগে নাজমা আক্তার লুপা তালুকদার ওরফে লুপা বেগম (৪২) নামে এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে জিনিয়াকে উদ্ধারে নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত চৌধুরী। এ উদ্ধার প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন তিনি।
আরাফাতের এ অবদানের কথা তুলে ধরে ফেইসবুকে তার বন্ধুরা লেখেন, ‘জিনিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। জিনিয়া উদ্ধার হওয়ায় আমরা সবাই খুশি। জিনিয়াকে উদ্ধারের নেপথ্যে যে ছেলেটার অবদান সবচেয়ে বেশি তার কথা হয়ত আমরা জানিই না। গত ১ তারিখে জিনিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ যখন কেসটি নিয়ে আগানোর জন্য ক্লু পাচ্ছিল না তখন এই ছেলেটি সারাদিন টিএসসি ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী সবাইকে খুঁজে বের করে। তাদের সকলের কাছ থেকে ওই দুই নারীর শারীরিক গড়ন, তাদের কাপড়-চোপড়ের রং, তাদের চলার পথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্লু খুঁজে বের করে পুলিশকে জানিয়ে সহযোগিতা করে। সে শুধু গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, গত দুদিন পুলিশের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করাসহ অপহরণকারীদের ছবি ও অবস্থান শনাক্ত করায় পুলিশকে সহযোগিতা করে। এই ছেলেটির গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশনের কারণে আমাদের টিএসসি কন্যা জিনিয়াকে পুলিশ চার দিনে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।’
তারা আরও লেখেন, ‘এই ছেলেটার নাম আরফাত চৌধুরী। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। জিনিয়ার সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও রক্তের সম্পর্কের মানুষের চেয়ে বেশি করেছে এই ছেলেটা। স্বার্থপর এই শহরে কিছু মানুষ এখনো রয়েছে যারা নিঃস্বার্থ। এ ধরনের মানুষগুলো জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে খুব গর্ব হয়। বেঁচে থাকুক এই মানুষেরা হাজার বছর। এরাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল হিরো।’
এ বিষয়ে আরাফাত চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিনিয়াকে অপহরণ করা হয় ১ সেপ্টেম্বর রাতে। কিন্তু ৫ তারিখ পর্যন্ত তাকে উদ্ধারের কোনো তৎপরতা দেখতে পাইনি। তখন আমি উদ্যোগী হয়ে মতিঝিল জোনের পরিচিত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই। তিনি আমার সঙ্গে রমনা জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তার যোগাযোগ করিয়ে দেন। তারা আমাকে জিনিয়া উদ্ধারে পুলিশকে সহযোগিতা করতে বলেন।’
তিনি বলেন, ‘এরপর ৫ সেপ্টেম্বর আমি জিনিয়াকে যে জায়গা থেকে অপহরণ করা হয় সেখানে গিয়ে সবার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চাই। এর মধ্যে জিনিয়ার মাসহ তিনজন আমাকে দুই নারীর শারীরিক গড়ন, পোশাকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। আমি সিসিটিভি কোথায় কোথায় স্থাপন করা হয়েছে তা-ও খুঁজে বের করি।’
আরাফাত আরও বলেন, ‘আমি ৫ তারিখেই শাহবাগ থানায় গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সব তথ্য দিই। ৬ সেপ্টেম্বর তাদের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজগুলো দেখি। এরপর পুলিশের একজন সোর্স শারীরিক গড়নের বিবরণ শুনে এক নারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। ৭ তারিখ গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে জিনিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়। জিনিয়াকে ফিরিয়ে আনতে আমার উদ্যোগ কাজে লেগেছে এ জন্য আমি খুশি।’