করোনাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনের ঘটা করে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার পর এবার সদলবলে পিকনিকে গেলেন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইয়াসির আরাফাত। শুক্রবার সকালে তিনি নৌকাযোগে জেলার নাসিরনগরের হরিপুর জমিদার বাড়িতে পিকনিকে যান। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে এম ইয়াসির আরাফাত প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের কয়েকজন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শুক্রবার সকালে যান পিকনিকে। নৌকায় করে তারা যান জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর জমিদার বাড়িতে। তাদের দলে ছিলেন অন্তত ৩০ জন। জমিদার বাড়িসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন তারা। সেখানে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। তবে ছবি তোলা ও ফেইসবুক পোস্টসহ অন্যান্য বিষয়ে তারা বেশ সতর্ক ছিলেন। কিন্তু অন্য একটি ‘পিকনিক টিমের’ ফেইসবুক লাইভে বিজয়নগরের ইউএনওসহ প্রশাসনের লোকজন এসেছেন জানানো ও ছবি দেখানো হলে বিষয়টি জানাজানি হতে শুরু করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টার পর বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ থেকে নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে বের হয়ে সকাল ১১টায় উপজেলার চান্দুরা ঘাট থেকে তারা নৌকায় ওঠেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিজয়নগর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিলন কৃষ্ণ হালদার, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নিরূপমা ভৌমিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দোলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি তারা বিজয়নগরে ফিরে আসেন।
বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, করোনাকালীন অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে সারা বিশ্বে। এ সময়ে পিকনিক করা অনুচিত। আমি এটাকে সমর্থন করি না। আর পিকনিকে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানাটাও সম্ভব না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজয়নগর উপজেলার একজন সংবাদ ও মানবাধিকারকর্মী বলেন, যেখানে প্রশাসন সব জমায়েত-জটলা নিরুৎসাহিত করছেন সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রশাসনের পিকনিকে যাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বেলা আড়াইটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি প্রথমে বলেন তিনি উপজেলাতেই আছেন।
তবে লাইভে তাদের নাসিরনগরের হরিপুর জমিদার বাড়িতে দেখা গেছে জানালে তিনি বলেন, এটা এমন কিছু না। একটা কাজ থাকায় এসেছি। আমার চলে আসছি।
বিজয়নগর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিলন কৃষ্ণ হালদার জানান, আমরা জমিদার বাড়িতে গিয়ে নেমে কিছুক্ষণ দেখে চলে এসেছি।
ইয়াসির আরাফাত ২৬ জুলাই বিজয়নগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন।
এর আগে গত ২০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মো.শাহআলম সরকারি বাসভবনে ঘটা করে আয়োজন আনুষ্ঠানিকতায় তিন শ অতিথি আমন্ত্রণ করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দেন। এরপর তাকে ২২ মার্চ ঢাকায় ওএসডি করা হয়।