করোনামুক্ত গণপরিবহন!

করোনা পরিস্থিতিতে গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হলেও গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। সেদিন থেকেই আসনপ্রতি যাত্রী হিসেবেই চলছে গণপরিবহন। গত ১১ দিনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের তেমন কোনো অভিযোগ না থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বললেই চলে। দূরপাল্লার বাসে স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা মানা হলেও সিটি সার্ভিসের ক্ষেত্রে তোয়াক্কা করছে না কেউই।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাসচালক, হেল্পার ও যাত্রীসব পক্ষই যেন স্বাস্থ্যবিধি মানতে নারাজ। বিশেষ করে বাস ছাড়ার আগে বাসকে সংক্রমণমুক্ত করা হচ্ছে না। বাসে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কোনো ব্যবস্থাও নেই। অতিরিক্ত বা দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার নিয়ম না থাকলেও বাসগুলো যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে। অফিস শুরু ও ছুটির সময়ে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে যাত্রী পরিবহনও স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি বাসগুলোতে বাতাস চলাচলের জন্য ভেন্টিলেশন ব্যবস্থাও নেই। এসব দেখে মনে হবে দেশে করোনোর সংক্রমণ থাকলেও গণপরিবহনে যেন তা নেই। সবমিলিয়ে করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই চলছে গণপরিবহন।

বাসমালিকরা বলছেন, যাত্রীর পরিমাণ কমে গেছে। তেল ও স্টাফদের খরচই উঠছে না। তারপরও তারা ভাড়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধ করতে তৎপর রয়েছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি কঠিন। অন্যদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, বাসচালকরা ইচ্ছেমতো যাত্রী তুলছেন, কোনো কোনো রুটে বেশি ভাড়াও আদায় করছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো ব্যবস্থাই নেই কোনো বাসে।

এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে গণপরিবহনের মাধ্যমে করোনা গণহারে ছড়াবে। একজন মানুষ একাধিক মানুষকে সংক্রমিত করবে। এর মধ্যে আবার লক্ষণবিহীন রোগীও আছে। শুধু গণপরিবহন নয়, সবক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। না মানলে বিপদ যেটা হবে, এখন সংক্রমণের গতি ধীর, হঠাৎ করে কোনো এক জায়গায় যখন সংক্রমণ শুরু হবে, তখন সেটা গোটা দেশকে একটা বিপদে ফেলবে। এটাকে আমরা বলি পরিমাণগত পরিবর্তন গুণগত পরিবর্তনে রূপ নেওয়া। তখন সেটা সামাল দেওয়া খুব কঠিন হবে।’

তিন মাস বাড়তি ভাড়ায় চলাচল করার পর গত পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়ায় ফেরে গণপরিবহন। ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের যে নিয়ম ছিল, সেটিও তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবহনগুলোকে এজন্য কয়েকটি শর্ত মেনে চলাচল করতে হবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে : মাস্ক পরতে হবে, স্যানিটাইজার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বা দাঁড়ানো যাত্রী বহন করা যাবে না। কিন্তু রাজধানীসহ সারা দেশে আগের নিয়মে ফিরে আসার ব্যাপারে গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা রয়েই গেছে। কিছু কিছু রুটে বেশি ভাড়া আদায় করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচলরত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যখন চাপ থাকে তখন মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী তোলে বাসগুলো। আবার যখন চাপ কম থাকে তখন যেখানে সেখানে বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে সড়কে ভোগান্তিতে পড়ে অন্যান্য পরিবহন। গতকাল শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সড়কের মোড়গুলোতে যানজট লেগে আছে। এসময় সড়কে বাস ছাড়া অন্যান্য পরিবহন কম দেখা যায়। এলেমেলো করে ব্যস্ততম সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে বাস। একজন যাত্রীর জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে গণপরিবহন। যাত্রী স্বল্পতায় গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

যাত্রী ও বাসের স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশিরভাগ রুটের বাসে পূর্বের নিয়মে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী অনেক বাসে ৩-৫ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের ঘটনা ঘটছে। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে যাত্রী-শ্রমিকের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে গণ্ডগোল বেধেছে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী তোলা নিয়ে। সকালে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষের ভিড় থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে বাসের লোকজন। আগের মতো দাঁড় করিয়ে নেওয়া হচ্ছে যাত্রী। বাসের সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীরাও ঠাসাঠাসি করে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন। অতিরিক্ত যাত্রী তোলা নিয়ে আসনের যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি চলছে। গণপরিবহনের এসব ভোগান্তি এড়াতে কর্মস্থলগামী মানুষ ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বাংলামোটরে বাস থেকে নামা এক যাত্রী শাহরিয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি গতকাল সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যেতে বাংলামোটর থেকে এম এম লাভলী বাসে ওঠেন। এসময় বাসে যাত্রী ছিল ঠাসাঠাসি। ভাড়া স্বাভাবিক নেওয়া হলেও গাবতলীতে গিয়ে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। কারণ তখন গাড়িতে যাত্রীর সংখ্যা কম। তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের উপযোগী কোনো নিয়ম নেই বাসে। সবই চলে মালিক-শ্রমিকদের মতো করে। রাস্তার পাশে লোক দেখলেই গাড়ি ব্রেক করছে। এক ঘণ্টার পথ দু ঘণ্টায়ও শেষ হচ্ছে না। এ এক অরাজকতা।’

অনুরূপ অবস্থা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায়ও। দেশ রূপান্তরের রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, করোনাকালের বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ হলেও রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। গত বুধবার সকালে রাজশাহী নগরীর গৌরহাঙ্গা এলাকায় গিয়ে হুড়োহুড়ি করে বাসে ওঠার চিত্র দেখা যায়। রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বাসে সিট খালি না থাকলেও যাত্রী তোলা হচ্ছিল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ‘সচেতনতার জন্য আমরা নির্দেশনা দিচ্ছি। এরপরও যদি কোনো পরিবহন এগুলো অমান্য করে তাহলে তাদের আমরা নামিয়ে দিচ্ছি। এটি বেশি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব।’

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকসহ টিকিট কাউন্টারের স্টাফদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কাউন্টারগুলোতে কিছু মাস্ক রাখাও হচ্ছে, কোনো যাত্রীর মাস্ক না থাকলে তাদের দেওয়ার জন্য। এসব মনিটরিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসনের নির্দেশনামতো একটি ভ্রাম্যমাণ টিম রয়েছে। বিআরটিএর প্রতিনিধি, বাসমালিক, শ্রমিকদের প্রতিনিধিও এ টিমে আছেন। তবে একটি টিম দিয়ে সবদিক দেখা একটু কষ্টকরই হচ্ছে।’

দেশ রূপান্তরের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বন্ধন, উৎসব, বিআরটিসি, আনন্দ, বন্ধু ও অনাবিলসহ বিভিন্ন কোম্পানির ৫শ’র মতো গণপরিবহন চলাচল করে নারায়ণগঞ্জ থেকে। আগের ভাড়ায় ফেরার পর এসব বাসের অধিকাংশেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। চালক থেকে শুরু হেলপার এমনকি যাত্রীরাও মাস্ক ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তার ওপর যাত্রী বোঝাই করে চলাচল করছে। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ সুপার সালেহউদ্দিন আহম্মেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিনই আমরা বাসের চালকদের জরিমানা করছি। গতকালও কয়েকটি বাসের চালককে জরিমানা করা হয়েছে এবং সামনে সরকারি নির্দেশনা না মানা হলে এর জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দেশ রূপান্তরের সিলেট প্রতিনিধি জানান, বাস, লেগুনা ও অটোরিকশায় যাত্রী পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গাড়িতে জীবাণুনাশক ছিটানো ও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও এই বিধি উপেক্ষিত। প্রশাসনও অনেকটা নীরব রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণপরিবহনসহ বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কড়াকড়ি আরোপের চিন্তা-ভাবনা চলছে। তবে মানুষের জীবিকা রক্ষাসহ নানা বাস্তবতায় কিছু জিনিস মেনেও নিতে হচ্ছে।’

এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্যাসেঞ্জার নেই। খুব খারাপ অবস্থা চলছে। যাত্রী চলাচল কমে গেছে। মানুষ এখন নেহাৎ দরকার ছাড়া চলাচল করে না। তার ওপর বন্যা গেল। উত্তরাঞ্চলের অবস্থা খারাপ। যাত্রী একেবারেই কমে গেছে। এখন যে গাড়ি চলে তাতে তেলের ও স্টাফদের চলে, মালিকদের কোনো লাভ নেই। কখনো খরচের টাকাও ওঠে না।’

মালিক সমিতির এই নেতা আরও বলেন, ‘দূরপাল্লার বাসে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ নেই। সিটি সার্ভিসে কোথাও টুকটাক অভিযোগ আসছে। সেটার জন্য বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে, তারা দেখছে। আমরা মালিকদের চিঠি দিচ্ছি, টেলিফোন করছি, যাতে তারাও ভাড়া ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো মেনে চলে। দুদিন আগেও সার্কুলার দিয়েছি। তাতে বলেছি, যদি কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে এই মালিক নেতা বলেন, ‘দূরপাল্লার গাড়িতে কিছু কিছু স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। সিটিতে এটার অভাব আছে। অনেক যাত্রী মাস্ক পরতে চায় না। জোর করে গাড়িতে উঠে যায়। স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। আমরা মালিকরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি। তবে বাসে স্বাস্থ্যবিধি মানানোটা একটু কঠিন। যাত্রীরা জোর করে উঠে যায়। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভাড়ার ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ গণপরিবহন আগের ভাড়ায় ফেরত গেছে। কিছু সড়কে আগের ভাড়া নিয়ে তর্কবিতর্ক রয়েছে। আগে যেখানে ভাড়া ছিল ২০ টাকা, সেটা করোনার কারণে হয়েছিল ৪০ টাকা। সেখান থেকে ২৫-৩০ টাকায় ফেরত এসেছে। কোনো কোনো সড়কে আগের ভাড়া থেকে ৫-১০ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। এরকম অভিযোগ কিছু কিছু আছে। তবে সেটা সারা বাংলাদেশে মোট গণপরিবহনের ক্ষেত্রে ৫-৭ শতাংশ।’

তবে মূল সংকট স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে উল্লেখ করে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘লকডাউন ঘোষণা দিয়ে ২৬ মার্চ মধ্যরাত থেকে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হলো। সেদিনের করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার এবং এখনকার হার আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এখন আমরা মনে করছি স্বাভাবিক সময়ে যাতায়াত করছি। এরকম একটা চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টা তখনো ছিল না। তখনো শর্তগুলো কাগজে-কলমে ছিল। এখনো কাগজে-কলমেই রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সচেতন যাত্রী হিসেবে কেউ মাস্ক পরে বাসে উঠল, কিন্তু তার আসনটি যদি জীবাণুমুক্ত না হয়, বাসের হেলপার যদি মাস্ক ব্যবহার না করে, তা হলে ওই সচেতন যাত্রী সুরক্ষিত থাকছেন না। রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে আসন এমনভাবে তৈরি করা, একজন যাত্রী চারপাশ থেকে অপরজনের গা-ঘেঁষে বসতে বাধ্য। কেননা বাসগুলোতে ১২-১৫টি পর্যন্ত অতিরিক্ত আসন সংযুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে একজন যাত্রীর পক্ষে কোনোভাবেই আরেকজন যাত্রী থেকে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। গণপরিবহনে একই পরিবারের লোক যাতায়াত করে না। ভিন্ন পরিবার, পরিবেশ ও এলাকার লোকজন একত্র হয়ে যাতায়াত করছেন। সে কারণে আমি মনে করি গণপরিবহনে করোনা সংক্রমণের ব্যাপারটা বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।’

স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে বড় ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাসে যাত্রী ওঠার আগে পুরো বাসটা সাবান পানি বা অন্য যেকোনো জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। বাসে সব যাত্রী মাস্ক পরবে। বাসে মাস্ক রাখতে হবে, যাতে কোনো যাত্রী ভুলে মাস্ক ফেলে এলে সে যেন ২-৩ টাকা দিয়ে মাস্ক কিনতে পারে। প্রত্যেকটা সিটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকতে হবে। কারণ যাত্রীরা বাসের রেলিং ধরে উঠবে, হ্যান্ডেল ধরবে, অন্তত বাসে একবার হলেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করবে। কোনো অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। প্রত্যেকে যেন সিটে বসতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বাসে ভেন্টিলেশন রাখতে হবে, যাতে বাতাস চলাচল করে।’

এই বিশেষজ্ঞ মত দেন, এসব স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়িত করা শুধু আইনের বিষয় নয়। বাসমালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের নিয়ে নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন ও মনিটরিং করা দরকার। এখন করোনার ছয় মাস শেষ হয়েছে। কাজেই তৃণমূলে উদ্বুদ্ধ করতে হবে সবাইকে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেবে মালিক সমিতি, তারা সরকারের কাছে চাইতে পারে। কাপড়ের মাস্ক সরবরাহ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে পুলিশ, মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি সবাই মনিটরিং একসঙ্গে করতে হবে। এতে সবার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উৎসাহ তৈরি হবে।