ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা

জড়িতরা ও কারণ চিহ্নিত, শিগগিরই প্রকাশ

সরকারি বাসায় ঢুকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার ওপর হামলার কারণ সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। খুব শিগগিরই ওই হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হবে বলে দিনাজপুর জেলা পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

এদিকে ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার তাকে ঘোড়াঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে দিনাজপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

হামলায় জড়িতরা ও কারণ চিহ্নিত : ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দিনাজপুর জেলা পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলার রহস্য উদঘাটনের শেষ প্রান্তে রয়েছি আমরা। খুব দ্রুতই প্রেস ব্রিফিং করার মাধ্যমে হামলাকারী ও জড়িতদের সবার সামনে এনে হাজির করা হবে। জানানো হবে ঘটনার মূল কাহিনীও।’ ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলায় মূলত একজন অংশ নেন বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

গত ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। হামলায় এক বা একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার খবরও জানা যায়। হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের চিত্র দেখে জড়িতদের ধরার চেষ্টা চালায় র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। হামলার পরদিন অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ঘোড়াঘাটের দুই যুবলীগ নেতাসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে কয়েকজনকে ছেড়েও দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনজনকে সন্দেহভাজন আসামি করা হয়। যুবলীগের বহিষ্কৃত সদস্য আসাদুল, রংমিস্ত্রি নবীরুল ও সান্টু কুমার রায়কে অধিকতর তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। যদিও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিন আসামি র‌্যাবের কাছে চুরির উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। কিন্তু চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনওর ওপর হামলার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি কেউই।

এদিকে হামলার কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশের একটি দল প্রথম দিন থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, হাতুড়ি, হামলাকারীর হাতে থাকা ব্যাগ এবং ভেন্টিলেটরে ওঠার জন্য ব্যবহৃত মইসহ বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে দেখছে পুলিশ। ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের মতো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবারও রাজমিস্ত্রি মোতালেব, হুমায়ুন, লাল মিয়া ও শাহীন আলমসহ কয়েকজন ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বে অবহেলায় ঘোড়াঘাট থানার ওসিকে প্রত্যাহার : ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল তাকে ঘোড়াঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে দিনাজপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। রংপুর সদর থানার পরিদর্শক আজিম উদ্দিনকে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানান।

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় ব্যর্থতা এবং ওই রাতে পুলিশের টহল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ওসি আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তিনি দায়িত্ব পালনকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপরও হামলা হয়েছিল।