মসজিদে বিস্ফোরণ

দগ্ধ ৫ জনের কিছুটা উন্নতি শঙ্কামুক্ত নন

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫ রোগীর শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে এখনো শঙ্কা কাটেনি। গতকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ইনস্টিটিউটের  নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ৫ জনের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে। তবে এখনো তাদের কেউই শঙ্কামুক্ত নন।

চিকিৎসাধীন দগ্ধ রোগীদের মধ্যে আমজাদ হোসেনের (৩৭) শরীরের ২৫ ভাগ পুড়েছে। ৪০ বছর বয়সী আবদুল আজিজের পুড়েছে ৪৭ ভাগ, রিফাতের (১৮) পুড়েছে ২২ ভাগ. মো. কেনানের (২৪) ৩০ ভাগ ও মো. ফরিদের পুড়েছে ৫০ ভাগ। 

গত ৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজ চলাকালীন বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় অর্ধশত মুসল্লি আহত হন। ঘটনার পর রাতেই ৩৭ জন দগ্ধ মুসল্লিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতে চিকিৎসাধীন ৭ বছর বয়সী শিশু জুবায়েরের প্রথম মৃত্যু ঘটে। এরপর একে একে মৃত্যু হয় আরও ৩০ জন মুসল্লির। যাদের প্রত্যেকের শরীরের ৬০ ভাগ থেকে শতভাগ পর্যন্ত পুড়েছিল। দগ্ধ হয়েছিল শ্বাসনালিও। চিকিৎসাধীন ৩৭ জনের মধ্যে কেবল একজন মুসল্লি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ৫ জনের মধ্যে একাধিক দগ্ধ রোগীর শরীরের কম অংশ পুড়েছে। তবে প্রত্যেকেরই শ্বাসনালি দগ্ধ হওয়ায় ঝুঁকি রয়ে গেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. পার্থ শংকর পাল  জানান, উন্নত বিশ্বে দগ্ধদের যে পদ্ধতিতে চিকিৎসা হয়, এখানেও একই ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের চিকিৎসার কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী সব সময় দগ্ধদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার রাতেও তিনি ফোন করে খবর নিয়েছেন বলে জানান।