বগুড়ার দুপচাঁচিয়া-তালোড়া সড়কটি বেহাল। ছয় কিলোমিটারের সড়কটি খানাখন্দে ভরা। উপজেলার তালোড়ায় রেলস্টেশন, ধান-চালের ব্যবসা, চালকল ও তৈজস তৈরির কারখানা রয়েছে। কিন্তু সড়কটির সংস্কার না করায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, তালোড়া থেকে দুপচাঁচিয়া ছয় কিলোমিটার সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তালোড়া আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে, লাফাপাড়া, পলিপাড়া, পদ্মপুকুর, লালুকার সেতুর কাছে, মহাশ্মশানের সামনে সড়কটির অবস্থা বেশি খারাপ। কয়েক মাস আগে স্থানীয়ভাবে পৌরসভা ইট ও ব্যাটস (ইটের গুঁড়া) দিয়ে সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করলেও বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে পানি জমায় ভারী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে ধীরে ধীরে চলাচল করছে।
ইজিবাইকচালক সাইফুল ইসলাম, সেকেন্দার আলী বলেন, বারবার ব্রেক কষে চলতে হয়। বর্ষার সময় ইজিবাইকের কন্ট্রোল বক্স ও চার্জার মোটর গর্তের পানিতে ডুবে গিয়ে তা মাঝেমধ্যে নষ্ট হয়। তখন সারা দিনের আয়ের টাকা মেরামত করতেই শেষ হয়ে যায়।
ট্রাকচালক ইউসুফ আলী বলেন, ধান ও চাল বোঝাই করে দিনে-রাতে কয়েকবার এ রাস্তা দিয়ে তালোড়া থেকে বিভিন্ন মোকামে যেতে হয়। জীবন চালানোর তাগিদে আমাদের এ রাস্তায়ই ট্রাক চালাতে হয়। মাঝেমধ্যে গর্তে ট্রাক আটকে যায়। দুই-একদিন পর পরই ট্রাক গ্যারেজে দিতে হয়।
তালোড়া পৌরসভার মেয়র আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তায় পৌরসভার কাজ করার বিধান নেই। তারপরও এলাকার স্বার্থে কয়েক মাস আগে সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য রাস্তায় ইট ও ব্যাটস দেওয়া হয়েছিল। রাস্তাটি মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।’
বগুড়ার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘নন্দীগ্রামের ওমরপুর থেকে তালোড়া-দুপচাঁচিয়া হয়ে আক্কেলপুর পর্যন্ত সড়কটি মেরামতের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ইতিমধ্যে দরপত্র হয়েছে। বর্ষার সময় বিটুমিনের কাজ করা যাবে না। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’