নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার একটি মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ও নিহত ব্যক্তির পরিবারগুলোকে আপাতত ৫ লাখ টাকা করে দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়ে গেছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের চেম্বার আদালত ওই আদেশটির ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।
তিতাস গ্যাসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মেজবাহুর রহমান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার।
আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করে। বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩৭ পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। পরে হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনার পর দ্বগ্ধ ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত ৩১ জন মারা গেছেন। দগ্ধদের মধ্যে একজন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। দগ্ধ আরও পাঁচজনের অবস্থা এখনো সংকটজনক। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওই মসজিদের গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বদ্ধ পরিবেশে গ্যাস জমে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জনস্বার্থে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী মার-ই-য়াম খন্দকার।