নির্যাতনে বাধার জের

নরসিংদীতে স্ত্রী ও বাড়িওয়ালা দম্পতিকে হত্যা

নরসিংদীর শিবপুরে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্বামীর হাতে স্ত্রী ও বাড়িওয়ালাসহ ৩ জন খুন হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। গতকাল রোববার ভোরে পুটিয়া ইউনিয়নের কুমারদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন হামলাকারী বাদল মিস্ত্রীর স্ত্রী কুমারদী গ্রামের মুন্না মিয়ার মেয়ে নাজমা আক্তার (৪৫), বাড়িওয়ালা তাজুল ইসলাম (৬০) এবং তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০)।

পুলিশ হামলাকারী বাদল মিস্ত্রীকে (৫৫) আটক করেছে। তিনি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার চর-কায়েরী গ্রামের প্রয়াত ইছহাক মিস্ত্রীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, ৯ বছর আগে বাদল মিস্ত্রীর সঙ্গে নাজমা বেগমের বিয়ে হয়। দুজনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকেই তারা কুমারদী গ্রামের তাজুল ইসলামের বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী বাদল মিয়ার সঙ্গে স্ত্রী নাজমা বেগমের মনোমালিন্য চলে আসছিল। এর জেরে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত। এরই মধ্যে রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিহত নাজমার ঘর থেকে হইচইয়ের শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। শব্দ পেয়ে বাড়িওয়ালা তাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় তারা বাদল মিয়াকে থামানোর চেষ্টা করেন। এতে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িওয়ালা ও উপস্থিত লোকজনকে এলোপাতাড়ি  কোপাতে থাকেন। এতে ৬ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে আনার পর নাজমা ও মনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অবস্থার অবনতি হলে আহত তাজুল ইসলামকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।

জেলা পুলিশের গণমাধ্যম বিষয়ক সমন্বয়ক ও গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রুপন কুমার সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘাতক বাদল মিস্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাকে পুলিশের প্রহরায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করা হয়েছে।’