বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি

পেঁয়াজের শুল্ক প্রত্যাহার করতে চায় না এনবিআর

ভারতে পেঁয়াজের ঘাটতির কথা বেশ কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। এমন শঙ্কার কারণে কিছুদিন ধরেই দেশে বাড়ছিল পেঁয়াজের দাম। গতকাল হঠাৎ করেই স্থল সীমান্ত দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এতে করে আরও দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাতে সাড়া দেয়নি।

বহুল আলোচিত পণ্য পেঁয়াজের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক প্রত্যাহারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি পাঠায় গত সপ্তাহে। তবে এনবিআর পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের পক্ষে নয়। গতকাল সোমবার সংস্থাটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়ে নিজেদের ‘অপারগতা’র কথা জানিয়ে দিয়েছে।

এনবিআর মনে করছে, পেঁয়াজে বর্তমানে যে শুল্ক রয়েছে; তার কারণে ভোক্তা পর্যায়ে দাম তেমন বাড়ার কথা নয়। বরং স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক থাকা প্রয়োজন। এমন যুক্তি দিয়ে গতকাল এনবিআরের শুল্ক বিভাগ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারের খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা থেকে লাফ দিয়ে ৬৫ এমনকি ৭০ টাকায়ও উঠে যায়। বাংলাদেশের আমদানিকৃত পেঁয়াজের বেশিরভাগই আসে ভারত থেকে। সেখানে কিছু এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রপ্তানি  কমে যায়। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দাম বাড়তে থাকে। আমদানিকারকরা পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির জন্য আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আরোপকেও দায়ী করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে এই শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য এনবিআরকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠান বাণিজ্য সচিব।

অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি পেঁয়াজের বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহার হবে বলেও জানিয়েছিলেন। ফলে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও এ বিষয়ে আশার সঞ্চার হয়। তবে গতকাল এনবিআরের অবস্থান জানার পর মিলিয়ে গেছে সে আশা। এদিকে এমন আলোচনার মধ্যেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

গত বছরও এই সময়ে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এরপর নানা আলোচনার মধ্যে স্থানীয় পেঁয়াজ উৎপাদনকারীদের উৎসাহিত করতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে আসে। তাদের একটি নির্দিষ্ট মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আরোপের দাবিও ওঠে। এরপর গত বাজেটে এনবিআর পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এনবিআরের শুল্ক বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এই শুল্ক দাম বাড়ার জন্য বাস্তবে দায়ী নয়। এর আগেও এ বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিলাম। অন্যদিকে ট্যারিফ কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে পরনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে স্থানীয় উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়া দরকার। এজন্য কীভাবে তাদের রক্ষা করা যায়, তা ভাবতে হবে।

বাণিজ্য সচিবের কাছে পাঠানো এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়, পেঁয়াজের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে দেশীয় চাষিরা ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। এতে দেশীয় পেঁয়াজ চাষিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। অন্যদিকে পেঁয়াজের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ শুল্ক ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধিতে তেমন প্রভাব সৃষ্টি করবে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।