কারসাজির কারণে ভারতে পেঁয়াজের দরবৃদ্ধি

ভারতের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পর গত সোমবার পণ্যটির রপ্তানি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এতে ক্ষুব্ধ ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও কৃষক। তারা বলছেন, কারসাজি করেই বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম। বাস্তবিক অর্থে পেঁয়াজ সংকট বাজারে নেই। চলতি মাস ও অক্টোবরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নভেম্বর নাগাদ প্রকৃতই সংকট তৈরি হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে খুচরায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ রুপিতে। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় দেশটিতে পেঁয়াজের বৃহৎ পাইকারি বাজার লাসাগাঁও মার্কেটে প্রতি কেজির দাম দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ রুপিতে। নিত্যপণ্যটির সংকট এড়াতে এরই মধ্যে আফগানিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন উত্তর ভারতের ব্যবসায়ীরা। গত সোমবার সন্ধ্যায় দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। মহারাষ্ট্রের রপ্তানিকারক দানিশ শাহ ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, নাসিকের পিম্পলগাঁও বাজারেই কেবল পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। দেশের অন্যান্য বাজারে পণ্যটি প্রতি কেজি ১০ রুপি কমে বিক্রি হচ্ছে। যেমন, নাসিকে উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম দিল্লিতে কম। অতএব, পণ্যটির দরবৃদ্ধিতে কারসাজি রয়েছে, সে বিষয়টি স্পষ্ট।

নাসিকের পিম্পলগাঁও বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০ রুপিতে। অতিবৃষ্টিতে কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে ভারতে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারতের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন (নাফেড) চলতি মৌসুমে ১ লাখ টন পেঁয়াজ সংগ্রহ করেছে।   

এদিকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে পুনর্বিবেচনা করতে বলছেন ভারতের মহারাষ্ট্রভিত্তিক দল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান শারদ পাওয়ার। তিনি বলেছেন, এ সিদ্ধান্তে লাভবান হতে পারে পাকিস্তান। কারণ ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কিংবা শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে বাজার হারাবে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশটির কৃষকরা। কারণ এখন তারা পেঁয়াজের ভালো দাম পেতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এ মুহূর্তে কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হলেও তা যে কোনো সময় হঠাৎ কমে যেতে পারে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের।

এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ব্যবসায় ভারত ক্ষতির শিকার হবে বলে মনে করেন শারদ পাওয়ার। তিনি তাই ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালকে অনুরোধ করেছেন, রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার। পাওয়ার বলেন, রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞায় শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি অংশীদারত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এতে লাভবান হবে পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ।

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট কৃষকদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া কৃষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক অজিত নাভালেও। তিনি বলেন, কৃষকরা এ সিদ্ধান্তে  মোটেও খুশি নয়। রাস্তা অবরোধ করে এর প্রতিবাদ করা হবে।