‘গৃহবন্দি’ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই এখন বিএনপির কাজ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আজকে আমার কাছে যা মনে হয়, বড় একটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে চেয়ারপারসনের এই যে গৃহ অন্তরীণ হয়ে থাকা। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিএনআরসি) উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘকাল তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাকে বের করে আনাটা সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। এটা এক নাম্বার কাজ। দুই নাম্বার হচ্ছে আমাদের যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যিনি বিদেশে আছেন বাংলাদেশে ফিরে আসা গণতন্ত্রের জন্য বেশি প্রয়োজন এবং লাখো মানুষের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা সেগুলোকে দূর করা।’
তিনি বলেন, মূল বিষয়টা হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা। শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয়, জনগণের মধ্যেও সেই ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, এ দেশের মানুষ সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে। তারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছে, তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হয়েছে, তারা নিজেদের ভাষার অধিকার ফিরিয়ে আনতে জয়ী হয়েছে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে জয়ী হয়েছে। ইনশাল্লাহ এখনো গণতন্ত্রের এই যে সংগ্রাম, সমাজকে মুক্ত করার যে সংগ্রাম সেই সংগ্রামেও তারা জয়ী হবে যদি ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন সৃষ্টি করা যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সেই গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে সক্ষম হবো।
জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন এবং ২০ দলসহ ফ্রন্টকে নিয়ে একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে ‘ভোটের আগের দিন সরকারি দলের ভোট ডাকাতি’ প্রসঙ্গেও কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ। পরিচালনা করেন সাবেক সাংসদ ও বিএনআরসির পরিচালক জহিরউদ্দিন স্বপন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান : আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবিক সাম্য হরণ করছে। এ অবস্থায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে গণতন্ত্রের মুক্তির মাধ্যমে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলি।