করোনার এই ক্রান্তিকালে লকডাউন অবস্থা উঠে যাওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্রুত প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করছেন; স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ এডওয়ার্ড লি বাংলাদেশে ভি (V) ধাঁচের অর্থাৎ খাড়া গড়নের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রাক্কলন করেছেন। বর্তমানে দৃশ্যমান রপ্তানির প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এই ধরনের আশা-জাগানিয়া প্রাক্কলনে অর্থবহ প্রতীতি জোগায়। সরকারও সংকট মোকাবিলায় অগ্রভাগে লক্ষাধিক কোটি টাকার স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এগুলো ঠিকভাবে কার্যকর করা গেলে আমাদের মতো পরিশ্রমী ও ঘুরে দাঁড়ানোর যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষের পক্ষে স্বল্প সময়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসা তেমন কোনো কঠিন বিষয় নয়। তবে সামনে চ্যালেঞ্জ আছে অনেক।
দেশে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও করোনার সংক্রমণ এখনো অব্যাহত আছে, এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা ঢেউ এলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা কেউ জানে না। সামনের শীতকাল এই ব্যাধির কোনো অনুঘটকের ভূমিকায় কাজ করবে কি না, তাও আমাদের অজানা। আমাদের রপ্তানির গন্তব্যগুলো কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তার ওপর সেই সব জায়গায় আমাদের পণ্য-চাহিদা ও শ্রমবাজারের অবস্থা নির্ভর করছে। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় এখন হয়তো আগের বাতিল হয়ে যাওয়া কার্যাদেশগুলো আসতে শুরু করেছে। চীনের সঙ্গে আংকেল শ্যামের বাণিজ্যযুদ্ধও হয়তো এক্ষেত্রে কিছু ভূমিকা রাখছে। কিন্তু আগামী বৈশ্বিক পরিস্থিতি যে অবধারিতভাবে সব সময় আমাদের অনুকূলে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আমরা এখনো আমাদের রপ্তানিপণ্যে বৈচিত্র্য আনতে পারিনি; ৮৫ শতাংশের মতো আয় আসে ডিমভরা ঝুড়ির মতো ঝুঁকিপূর্ণ একটি মাত্র পণ্য তৈরি-পোশাক থেকে, সেটাও আবার শুধু সস্তা মৌলিক পণ্য উৎপাদনের চক্রে আবদ্ধ; উচ্চমূল্য বা ম্যান-মেইড-ফাইবার পণ্য উৎপাদনে আমরা আজও যে তিমিরে সেই তিমিরেই পড়ে আছি। এই ফাঁকে বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে চীন থেকে তৈরি-পোশাকের স্থানান্তরিত কেকের বড় টুকরাটা ভিয়েতনাম পকেটস্থ করে ফেলেছে। উচ্চমূল্য পণ্য তৈরিতে এগিয়ে থাকাসহ আরও বেশ কিছু অতিরিক্ত সুবিধা থাকায় ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে আমাদের অতিক্রম করে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে গিয়েছে। এ বছর এ খাতে প্রথম ছয় মাসে ভিয়েতনাম রপ্তানি করেছে ১৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য, আর এ সময়ে বাংলাদেশ করেছে ১১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ৪৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের রপ্তানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার; অথচ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় মাত্র ২ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার মূল্য মানের পণ্য। ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আশিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিপত্র (FTA) সম্পাদন করেছে। সামনের গ্রীষ্মে সেগুলো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সেটা হলে তাদের রপ্তানির ভিত্তি আমাদের চেয়ে আরও শক্তিশালী হবে। অথচ এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তেমন কোনো প্রস্তুতি দৃশ্যমান নয়; ২০২৭ সাল পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে, আমরা শুধু সেই দিকে তাকিয়ে অলস সময় পার করছি। এই প্রেক্ষাপটে সতত প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের সম্মান নিয়ে বাঁচতে এবং উন্নয়ন-লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাড়াতে হবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, করতে হবে কর্মসৃজন, তৈরি করতে হবে দক্ষ কর্মীবাহিনী, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তুলতে হবে দেশ-বিদেশে নতুন নতুন চাহিদা মেটানোর কারিগর তৈরির সূতিকাগার হিসেবে। আমরা যাতে পিছিয়ে না পড়ি এবং উদ্ভাবনী শক্তির সদ্ব্যবহার করে সমানতালে এগিয়ে যেতে পারি, তার জন্য আরও থাকতে হবে উন্নয়ন ও গবেষণায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও প্রণোদনা। কাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। কিন্তু সরকার যাদের দিয়ে এই কাজগুলো করাবেন, তাদের অধিকাংশের দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রেষণা বড়ই করুণ। তাদের ব্যবস্থাপনা ও পদায়ন যতটা না হয় মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার বিচারে, তারচেয়ে ঢের বেশি হয় নৈকট্য, সংযোগ ও স্তাবকতার নৈবেদ্যে যেটা তাদের পেশাদার ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আদৌ অনুকূল নয়; কারণ, যোগ্যরা সাধারণত শক্ত মেরুদন্ড সম্পন্ন হন, তদবির ও স্তাবকতা তাদের ধাতে তেমন একটা থাকে না।
বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা করার সূচক ২০২০-এ বাংলাদেশ আগের বছরের চেয়ে ৮ ধাপ এগিয়ে ১৬৮তম অবস্থানে পৌঁছেছে। এটাকে অনেক কর্তা আমাদের অগ্রগতির উলম্ফন বলে দাবি করলেও প্রকৃত অবস্থা হলো এই উপমহাদেশে আমরা শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের যৎসামান্য ওপরে আছি, বাদবাকি সবাই আমাদের ওপরে চলে গিয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতের অবস্থান ছিল ১৪২, এখন ৬৩; শুধু ২০১৮ সালেই এক লাফে ১৪ ধাপ ডিঙিয়ে আজ তাদের এই অবস্থান। আমাদের এই অধোগতির কারণ সিরিয়াসলি খুঁজে বের করে দ্রুত তার প্রতিকার করতে হবে। মনুষ্য-স্পর্শবিহীন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি প্রবর্তন করায় ভারতে আমদানিকৃত পণ্যের ৪০ শতাংশ চালান ছাড় করার সময় ১২ ঘণ্টা থেকে ১২ মিনিটে নেমে এসেছে। আর আমাদের এখানে এখনো কাস্টম ক্লিয়ারেন্সে আমদানির ক্ষেত্রে গড়ে ৮ দিন এবং রপ্তানিতে গড়ে ৫ দিন সময় লাগছে। তবে আশার কথা হলো এই যে, এ কাজে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ‘জাতীয় একক বাতায়ন’(National Single Window) চালু করতে যাচ্ছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (BIDA) ওয়ান স্টপ সার্ভিস শক্তিশালী করতে যাচ্ছে। এগুলো কাজ করলে পরিস্থিতির কী উন্নতি হয়, আমরা এখন তা দেখার অপেক্ষায় আছি।
তবে দু’একটি ক্ষেত্রে খণ্ডিতভাবে সেবা দিয়ে দেশের বিনিয়োগ-পরিবেশের বাঞ্ছিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিদেশি বিনিয়োগ পর্যাপ্ত পরিমাণে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দেশি বিনিয়োগেও গতি সঞ্চার করতে দরকার দেশের সার্বিক পরিবেশের উন্নতি। বিনিয়োগ পরিবেশের অভাবে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের পরিমাণ কম নয়; Global Financial Integrity (GFI) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৫ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের পরিমাণ গড়ে বছরে ৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। দেশে বিনিয়োগ-পরিবেশের অপর্যাপ্ততা যে এই অর্থপাচারের অন্যতম একটি কারণ, তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া দেশের নাগরিকরাও রাষ্ট্রের কাছ থেকে দ্রুত সেবা প্রত্যাশা করে। কিন্তু নাগরিকদের সেবাদান পরিস্থিতি আরও নাজুক।
এ প্রসঙ্গে দু’একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা না বলে পারছি না। অবসর নেওয়ার পর অপেশাদার চালক হওয়ার শখ হলো। এ জন্য ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসের ২ তারিখে শিক্ষানবিসের ড্রাইভিং লাইসেন্স বের করলাম। কিন্তু দেখলাম তাতে ড্রাইভিং পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ। সুদীর্ঘকাল পার করে দিলাম পরীক্ষা, পাসও করলাম। ডিসেম্বর মাসের ২৩ তারিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র জমা রাখা হলো। পরের দিন এ কাজে ছবি ওঠালাম ও আঙুলের ছাপ দিয়ে এলাম। মাস তিনেক পর লাইসেন্স সরবরাহের তারিখ নির্ধারিত হলো। সেদিন কাউন্টারে উপস্থিত হলে লাইসেন্স না দিয়ে ২০২০ সালের আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ লাইসেন্স প্রদানের সম্ভাব্য পরবর্তী দিন ধার্য করা একটি সিল আমার আবেদনের কপিতে বসিয়ে বিদায় করা হলো। দীর্ঘদিন পর নির্ধারিত তারিখে যখন আবার উপস্থিত হলাম, তখনো লাইসেন্স নয়, আগের মতো আরেকটা ছাপ পেলাম। এবার সময় বাড়ানো হয়েছে পুরো এক বছর, অর্থাৎ ২৩ আগস্ট ২০২১ সাল পর্যন্ত। এখন বুঝুন ঠেলাটা; যে দেশে একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে তিন বছরের বেশি সময় ক্ষেপণ হয়, সেখানে কোন আহাম্মক টাকা বিনিয়োগ করে বিপদে পড়তে চাইবে?
এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানোর জন্য ব্যবস্থাপনার খোলনলচে বদলাতে হবে; ঘটাতে হবে তার প্রকৃত অর্থে রূপান্তর। অতি কদাকার শূককীট-মূককীট থেকে যেমন অতি মনোহর প্রজাপতি পয়দা হয়, সে রকম কিছু; সেটাকে করতে হবে গুণতন্ত্রে (meritocracy) পরিণত; শুধু ওপরে ওপরে চুনকাম করে পরিবর্তনের চেষ্টা নিলে হবে না। নির্মোহভাবে কাজের মূল্যায়ন করে হায়ার অ্যান্ড ফায়ারের (hire and fire) ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে; বদলি তার কোনো দাওয়াই হতে পারে না। যেখানে কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছে, সেখানে দরকার শল্য চিকিৎসা আর কেমোথেরাপি। তদবিরকারীদের নয়, যারা তদবির করেন না, তেমন যোগ্য লোককে খুঁজে বের করে প্রাপ্য সম্মান ও সুবিধা দিয়ে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আসীন করতে হবে, হতে পারেন তিনি সরকারি কর্মকর্তা, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কুশীলব। যিনি যে কাজ জানেন, বোঝেন ও কর্ম সম্পাদনে সক্ষম, তাকে সেই কাজে অভিষিক্ত করতে হবে। ‘বিডা’র মতো প্রতিটা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে। ইতিহাসে এর নজির রয়েছে।
সিঙ্গাপুরে যে ব্রিটিশ নৌঘাঁটি ছিল, ১৯৭০ সালের দিকে তা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত আসার আশঙ্কা তৈরি হয়; এতে সরাসরি ৩০ হাজার চাকরি ও জিডিপির ২০ শতাংশ হ্রাসের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। এই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ ১৯৬৯ সালে স্বল্প পুঁজি-নির্ভর শ্রমঘন পর্যটন শিল্পের বিকাশে উদ্যোগ নেন এবং গঠন করেন Singapore Tourist Promotion Board। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি কোনো আমলাকে নিয়োগ দেননি; দিয়েছিলেন সিনেমা জগতের এক নক্ষত্র Runme Shaw যিনি এই কাজ ভালো বুঝতেন। সিঙ্গাপুরের প্রাথমিক বেকার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে এই প্রতিষ্ঠান বিশেষ অবদান রাখে। শুধু তাই না, দেশের উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে দ্রুত পরিপুষ্ট করার লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডে অধ্যয়নরত দেশীয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মেধাবী ছাত্রদের সিঙ্গাপুরে আসতে এবং চাকরি গ্রহণ করতে বৈদেশিক মিশনগুলোর মাধ্যমে তৎপরতা চালান। অতি মেধাবীদের জন্য মার্কিন করপোরেট রীতির আদলে তিনি ‘Green Harvest’ প্রকল্প চালু করেন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চূড়ান্তভাবে পাস করার আগেই তাদের চাকরিতে নবিস হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়।
উন্নয়নের একপর্যায়ে সত্তরের দশকে সুপ্রজনন বিদ্যার (Eugenics) সাধারণনীতি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মেধাবী জাতি গঠনের প্রয়োজনে তিনি নিজের দল, বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কড়া সমালোচনার মধ্যেও তার ‘মহা বিবাহ বিতর্ক’ এর সূত্রপাত করেন। সার্বজনীন শিক্ষার সুবাদে লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই শিক্ষিত হয়ে উঠছিল। কিন্তু উচ্চশিক্ষিত ছেলেরা উচ্চশিক্ষিত মেয়েদের বিয়ে করছিল না। এশীয় সংস্কৃতিতে স্ত্রীর মর্যাদা আর শিক্ষা বরের চেয়ে নিচে না হলে পরিবারে ও সমাজে অস্বস্তি বাড়ে। এইভাবে মেধাবী উচ্চশিক্ষিত ছেলেদের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী স্বল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত মেয়েদের বিয়ে হওয়াতে সমাজে উঁচুমানের মেধাবী পরবর্তী প্রজন্মের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছিল। এই সমস্যা নিরসনকল্পে মেধাবী পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে লি উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়েদের মেলামেশার মাধ্যমে বিয়ে বাড়াতে Social Development Unit গঠন করেন। উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়ের মধ্যে বিয়ে এবং তাদের সন্তান সংখ্যা বাড়াতে তিনি নানা রকম সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থাও প্রবর্তন করেন।
আমরা বিশ্বাস করি যে, ব্যবস্থাপনায় গুণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। সিঙ্গাপুরের মতো সরকারি সেবাদান কাজে জবাবদিহি ও গুণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা গেলে আমাদের বিনিয়োগ যেমন বাড়বে, তেমনি নাগরিকরাও রাষ্ট্রের কাছ থেকে দ্রুত সেবা পাবে; ত্বরান্বিত হবে আমাদের প্রত্যাশিত উন্নয়ন, বাড়বে সেবার মান।
লেখক খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক
rulhanpasha@gmail.com