মুশফিকুর রহিম জেনেছিলেন ১১ বছরের আলোচিত ছেলেটি তার বড় এক ভক্ত। আরও জানতে পেরেছিলেন ইয়ামিন নামের এই ক্রিকেটপাগল কিশোরের স্বপ্নপূরণের জন্য তার মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা। কয়েক দিন আগে ভাইরাল হওয়া ইয়ামিন ও তার মায়ের ক্রিকেট খেলার ছবির গল্পটা এখন সবার জানা। বেশ কিছু উপহার হাতে গতকাল বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক, এই সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক দেখা করে এলেন ইয়ামিন ও তার মায়ের সঙ্গে। ইয়ামিনের কাছে এর চেয়ে বড় ‘স্বপ্নপূরণ’ আর কিছু হতে পারে না।
ইয়ামিন ঢাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র। মা গৃহিণী। ছেলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন। তাই একটি অ্যাকাডেমিতে তাকে নিয়ে যান মা। সেদিন পল্টন ময়দানে ছেলের বোলিংয়ে বোরকা পরা মায়ের ব্যাটিং কিংবা তাকে আউট করে ইয়ামিনের উদযাপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলে। ব্যাপারটা মুশফিকের চোখে পড়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেল থেকে।
গতকাল বনানীর একটি মাঠে ক্ষুদে ভক্ত ইয়ামিনের সঙ্গে দেখা করতে যান মুশফিক। সঙ্গে নিয়ে যান তার একটি ১৫ নম্বর জার্সি, অটোগ্রাফ সংবলিত কিছু স্মারক, রেপ্লিকা ব্যাট, গ্লাভস। উপহারের চেয়ে মুশফিককে আধঘণ্টার জন্য পাশে পেয়েই বেশি উচ্ছ্বাস ইয়ামিনের। নায়ককে এত কাছে পাওয়ার মতো আর কী হতে পারে?
টেলিভিশনে দেখা রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে মুশফিক জানান, ‘ভিডিওটি দেখে আমি উৎসাহিত হয়েছি যে তার সঙ্গে যেখানেই হোক দেখা করার। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে ইয়ামিনের মায়ের যে এত সংগ্রাম। ছেলের স্বপ্নপূরণ করার জন্য অনেক কষ্ট করে যাচ্ছেন।’
ইয়ামিনের অনেক প্রশ্ন ছিল মুশফিকের কাছে। কীভাবে এত রান করেন মুশি, আরও কত কী। মা ঝর্ণা আক্তার জানান, ‘ইয়ামিন খুবই খুশি তার প্রিয় ক্রিকেটারের সঙ্গে দেখা করতে পেরে।’
আর ইয়ামিন কী বলে? ‘আমার জীবনে একটা স্বপ্ন ছিল আমি মুশফিক ভাইয়ার সঙ্গে দেখা করব। আল্লাহর রহমতে আমার সেই স্বপ্ন এখন পূরণ হয়েছে।’ চোখমুখে আলো ছড়িয়ে তার প্রকাশ, ‘এর চেয়ে বেশি খুশির বিষয় আমার হতে পারে না।’
ইয়ামিন মুশফিকের কাছে জানতে চেয়েছিল তার মতো হতে হলে তাকে কী করতে হবে। হাসিমুখে মুশফিকের জবাব, ‘আর কারও মতো হতে না চেয়ে ইয়ামিন যেন ইয়ামিনের মতোই হয়।’