বিদেশে নিতে নিষেধাজ্ঞা অখুশি খালেদার পরিবার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়েছিল বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় অখুশি জিয়া পরিবার। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মেজো বোন বেগম সেলিমা ইসলাম।

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসনকে পরিপূর্ণ সুস্থ করতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নেওয়া দরকার। কিন্তু সরকার তার সাজা স্থগিত করে দ্বিতীয় দফা ছয় মাসের জন্য মুক্তি দিলেও তাতে কাজ হবে না। আমাদের প্রত্যাশা সরকার বিষয়টি মানবিকভাবে দেখবে এবং চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিতে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করবে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া আগে ছিলেন কারাবন্দি। এখন রয়েছেন গৃহবন্দি। তাকে মুক্ত করতে হবে।

খালেদা জিয়ার মেজো বোন বলেন, খালেদা জিয়াকে সুস্থ করতে উন্নত চিকিৎসা দরকার। পরিবারের পক্ষ থেকে দুই দফা যে আবেদন করা হয়েছিল তাতে বিষয়টি উল্লেখ আছে। কিন্তু সরকার বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার অনুমতি দেয়নি। বারবার সরকারকে অনুরোধ করার পরও তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করছে না। সরকার অনুমতি না দিলে তো কিছু করার নেই। জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে তো আর লড়াই করা যায় না।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ারা তিন বোন। বড় বোন খুরশিদ জাহান হক ২০০৬ সালের ১৪ জুন মারা যান। মেজো বোন সেলিমা ইসলাম। খালেদা জিয়া সবার ছোট। তার দুই ভাই। এর মধ্যে সাঈদ এস্কান্দার মারা গেছেন। ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজার কার্যকারিতা আগের দুই শর্তে আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে সরকার। খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এ বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেছে।

গত ২৫ মে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। তার দ-ের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলে তিনি কারামুক্ত হন। ওই মুক্তির মেয়াদ ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই শামীম এস্কান্দার গত মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেন। তাতে তার অসুস্থ বোনের কারামুক্তির পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আহ্বান জানান।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আগের শর্তেই খালেদা জিয়ার সাজা আরও ছয় মাস স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মতিসূচক মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। আবেদনটি আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

কারামুক্তির পর ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গুলশানে তার ভাড়া বাসা ‘ফিরোজায়’ ওঠেন। তিনি আর্থ্রারাইটিসের ব্যথা, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় কারাজীবন শুরু করেন খালেদা জিয়া। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তার সাজার রায় হয়। তার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চেয়ারপারসনের সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের মুক্তির জন্য যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন তার কপি পাওয়া গেছে। বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশা করছি চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিতে যে নিষেধাজ্ঞা আছে তা প্রত্যাহার করে নেবে।