বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ তারিখ ঘোষণা করেন। রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর এই দিন ধার্য করা হয়।
এদিকে মামলার সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে ফের বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী আসলামের জিম্মায় জামিন দেওয়া হয়েছে। গতকাল মিন্নির পক্ষে করা জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বিচারক।
১৫ মাস আগে দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিল, তাদের মধ্যে ১০ জনের বিচার চলে জজ আদালতে। বাকি ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার চলছে বরগুনার শিশু আদালতে।
আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ১ নম্বর আসামি রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩)। আর নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি অভিযোগপত্রের ৭ নম্বর আসামি। যার নাম মামলার এজাহারে ছিল এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে।
প্রাপ্তবয়স্ক বাকি আট আসামি হলো আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), হাসান (১৯), মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)। তাদের মধ্যে মুসা পলাতক। বাকিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে।
মামলার নিয়মিত ধার্য তারিখে গতকাল সকাল ৯টার দিকে বাবার সঙ্গে আদালত চত্বরে আসেন মিন্নি। এরপর আদালতে হাজির করা হয় বরগুনা জেলা কারাগারে থাকা আট আসামিকে। পরে সকাল ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন।
মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য আদালতে আমরা যুক্তি উপস্থাপন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। তবে উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে থাকা মিন্নির জামিনের মেয়াদও শেষ হয়েছে। তাই আমার জিম্মায় পুনরায় মিন্নির জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করলে বিচারক তাকে আমার জিম্মায় দিয়েছেন।’
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ভুবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, ‘উভয়পক্ষের যুক্তি খণ্ডন শেষে বিচারক সন্তুষ্ট হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার রায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী যে এই রায়ের মধ্য দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। সেই সঙ্গে নিহত রিফাতের পরিবার ন্যায্য বিচার পাবে।’ রিফাত হত্যা মামলায় মোট ৭৬ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও জানান এ আইনজীবী।
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওইদিনই মারা যান।
গত বছর ১ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে এ বছর ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। অন্যদিকে ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত। মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক সাত আসামি উচ্চ আদালত এবং বরগুনার শিশু আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছে।