ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের ২৫টি প্যাকেজের ঠিকাদারি কাজ বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। বাতিল কাজগুলোর চুক্তি মূল্য ৮৮ কোটি ২১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৮৯ টাকা। তবে এরই মধ্যে দুই ভাইয়ের নিয়ন্ত্রিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে।
ফরিদপুর এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাতিল হওয়া কাজের মধ্যে বরকতের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সাজ্জাদ বরকত কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের রয়েছে ২১টি এবং মেসার্স প্রত্যাশা এন্টারপ্রাইজের ৩টি। অন্যটি ভাই রুবেলের রাফিয়া কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নামে বরাদ্দ পাওয়া।
ফরিদপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী পিন্টু সাহা জানান, চলতি বছরে রুবেল-বরকতের প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে মোট ৩৮ প্যাকেজে কাজ চলমান ছিল। এর মধ্যে ২৫টি বাতিল করা হয়েছে। বাকিগুলো বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বাতিল কাজগুলোর মধ্যে ৭০ থেকে ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে চারটির। এখনো কাজ শুরু হয়নি ১৪টি প্যাকেজের। বাতিল করা কাজের মোট ২৮ ভাগ শেষ হয়েছে। এর বিপরীতে টাকা তোলা হয়েছে ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম ফারুক হোসেন জানান, পিপিআর চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী চলমান কোনো কাজ টানা ২৮ দিন বন্ধ থাকলে এলজিইডি তা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।
গত ২৭ মে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনায় ৭ জুন রাতে গ্রেপ্তার হন দলটির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ বরকত ও ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি রুবেল। এ সময় তাদের বদরপুরের বাড়ি থেকে অস্ত্র, গুলি, মদ, ইয়াবা, ১ হাজার ২০০ বস্তা সরকারি চাল ও বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাসহ ডজনখানেক মামলা করা হয়। বিভিন্ন মামলায় দফায় দফায় রিমান্ড শেষে বর্তমানে তারা ফরিদপুর কারাগারে রয়েছেন।