জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে শতকোটি টাকার জমি রেজিস্ট্রি ও দখলচেষ্টার অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানায় করা মামলাটির তদন্তভার পেয়েছে সিআইডি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ভবনস্থ সিআইডি কুষ্টিয়া কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম এ তথ্য জানান।
আবু সায়েম বলেন, শহরের এনএস রোডের বাসিন্দা এমএমএ ওয়াদুদ তার প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের জমি বিক্রি ও হস্তান্তরের মাধ্যমে দখলচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। এরই মধ্যে ১৮ আসামির মধ্যে ছয়জনকে এবং এজাহার বহির্ভূত একজনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি এজাহারভুক্ত ১২ জন এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে তদন্ত সাপেক্ষে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে অনেক স্পর্শকাতর তথ্যও উঠে এসেছে। তদন্তকালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো ঘটনার যোগসূত্র পেলে আদালতের আদেশক্রমে সিআইডি আরও মামলা করবে। সেই সঙ্গে জমিজায়গা সংক্রান্ত জালিয়াতির সব অপরাধকে আমলে নিয়ে তদন্ত পরিচালিত হবে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে যতটুকু বলা সম্ভব তার বাইরে কিছু বলছেন না বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা আবু সায়েম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু হাশেম, সিআইডি কুষ্টিয়া জোনের অন্য কর্মকর্তারা ছাড়াও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শুরুতে মামলাটি তদন্তভার কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আকিবুল ইসলামের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জমি রেজিস্ট্রির মতো স্পর্শকাতর অপরাধ সংঘটিত থাকায় তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়। মামলার বাদী ওয়াদুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জালিয়াতি করে আমার জায়গাজমি বাড়িঘর দখলের অভিযোগে ১৮ জনের নামে মামলা করেছি। এখন আরও অনেকের নাম বেরিয়ে আসছে। জালিয়াতি চক্রের টাকা বিনিয়োগকারী মহিবুর তার জবানবন্দিতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামকে প্রধান খুঁটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এসব জালিয়াতি কাজে কোনো ধরনের সমস্যা হলে তিনিই নাকি সব কিছু সামাল দেন। রাজনৈতিক প্রভাবশালীর ক্ষমতা ছাড়া এত বড় জালিয়াতি হতে পারে না।’
তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিখিতভাবে জানিয়েছেন, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হেয় এবং কুষ্টিয়ার নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধার সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে এসব করছে।
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত জানান, মামলাটি নিয়ে পুলিশ কোনো চাপে নেই। মামলার তদন্তে যাকেই সংশ্লিষ্ট বলে মনে হবে তাকেই ধরা হবে। এখানে কে ছোট কে বড় বা রাঘববোয়াল বলে কোনো শব্দ নেই। ক্রিমিনাল ক্রিমিনালই। মামলার সব আসামিকেই একই ভাবে দেখা হবে।