ঝাঁজ কমেনি পেঁয়াজের আশা দেখছে সরকার

পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপগুলোতে এখনো সুফল আসেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কারণে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ দাবির সঙ্গে দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে মিল পাওয়া যায়নি। গতকালও দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের দামে ছিল বিশৃঙ্খলা। একেক জায়গায় একেক দামে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, নতুন করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশিরভাগ জায়গাতেই ছিল স্থিতিশীল।

অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে পেঁয়াজ নিয়ে চিঠি চালাচালিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে এমনই প্রত্যাশা বাংলাদেশের। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতে পেঁয়াজের সংকট কেটে যাবে এবং নতুন পেঁয়াজ এলে দেশটি আবার রপ্তানির অনুমতি দেবে। বাংলাদেশকে না জানিয়ে হঠাৎ করে ১৫ সেপ্টেম্বর দেশটি পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় অনুতপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বলেন, রপ্তানি বিষয়ে ভারত কোনো চূড়ান্ত কথা বলেনি। তবে আগের এলসি করা যেসব পেঁয়াজ স্থলবন্দরগুলোতে এসে আটকে আছে সেগুলো ছেড়ে দেবে এমন আভাস পাওয়া গেছে ভারতের কাছ থেকে। তিনি বলেন, তবে গতবারের মতো ভারত রপ্তানি আদেশ বন্ধ এত দীর্ঘ করবে না। ভারতেও এখনো সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। সেখানেও পেঁয়াজের দাম বেশি।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের দেওয়া চিঠির সুফল পাব বলে আমরা আশা করি। ইতিমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ঘটনার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করা হয়েছে। আর বন্দরে অপেক্ষমাণ পেঁয়াজবোঝাই ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি পাবে এমন আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

তবে আমাদের প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল রাতে এ রিপোর্টে লেখা পর্যন্ত কোনো ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। তবে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হয়তো দুয়েক দিনের মধ্যে অপেক্ষমাণ এসব ট্রাক দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি মিলবে।

বাজার বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পক্ষ থেকে অনুতপ্ত হওয়ার বিষয়টিও ইতিবাচক। তবে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে আমাদের অবশ্যই ভারতনির্ভরতা কমাতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং রাখতে হবে। আর ভারতের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম বাড়ার সঙ্গে যে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যুক্ত তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ বিক্রি করা অব্যাহত রাখতে হবে। তারা বলেন, ভারতের বাইরে তুরস্ক, মিয়ানমার, পাকিস্তানসহ যেসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব সেগুলো দ্রুত করতে হবে। এর মধ্যে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আগাম ঘোষণা না দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় অনুতপ্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, গত বুধবার পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বন্ধ না করতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেও তা আগেই জানানোর অনুরোধও ছিল। দুই দেশের মধ্যে এ ব্যাপারে একটা বোঝাপড়া হয়েছিল। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, হঠাৎ করে ভারতের এ পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞায় বিব্রত হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভূ-রাজনৈতিক কারণে এবং চীনের সঙ্গে ভারতের চলমান যুদ্ধাবস্থায় দেশটি বাংলাদেশকে পাশে চায়। তাই আশা করা যাচ্ছে এবার পরিস্থিতি গতবারের মতো হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

সরকারের পদক্ষেপের কারণে বাজারে পেঁয়াজের মূল্য কমতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ জরুরি ভিত্তিতে আমদানির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই পর্যাপ্ত পেঁয়াজ দেশে পৌঁছবে। আগামী এক মাসের মধ্যে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আমদানি করা পেঁয়াজ স্থলবন্দর হতে দ্রুততম সময়ে ছাড় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এনবিআরের চেয়ারম্যান এবং বন্দর কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আপাতত প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ে পেঁয়াজের বিষয়ে দ্রুত সঙ্গনিরোধ সনদ ইস্যু শুরু করেছে । সব মিলিয়ে মাঠপর্যায়ে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়টি নির্দেশনা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোক্তা অধিদপ্তর সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং জোরদার করেছে।

এছাড়া দেশে পেঁয়াজের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ট্রাক সেলে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ দেশব্যাপী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি কেজি ৩০ টাকা মূল্যে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রয় শুরু করে।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাবির সঙ্গে বাজার পরিস্থিতির মিল পাওয়া যায়নি গতকাল। গত সোমবার ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় রাতারাতি ৬০ টাকা দরের পেঁয়াজ ১০০ টাকা ছাড়ায়। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ১২০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়। তবে গতকাল এর দাম আর বাড়েওনি, কমেওনি। অর্থাৎ বাজার চড়া মূল্যের ওপর স্থির রয়েছে। গত বছর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছিল।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকা। আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। অন্যদিকে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা। আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা। রাজধানীর শ্যামবাজারে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি হাজি মোহাম্মদ মাজেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাইকারি বাজারে গত দুদিন যে হারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে বৃহস্পতিবার সে হারে বিক্রি হয়নি। ফলে দাম বাড়েনি। কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান মোস্তফা বলেন, পেঁয়াজের দাম নতুন করে বাড়েনি। আর বাড়ার সম্ভাবনাও কম। কারণ বিক্রি অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত এ দাম স্থির থাকবে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের ধারণা, দাম খুব বেশি ওঠা-নামা করবে না।

কারওয়ানবাজারের আরেক ব্যবসায়ী গৌতম বাবু বলেন, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। আমদানি করা ভারতেরটা ৬০ টাকা। আজ নতুন করে পেঁয়াজের দাম হেরফের হয়নি। পেঁয়াজের এ দাম কয়েক দিন স্থির হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো নাজনীন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতবার ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল ঠিক আছে, কিন্তু এবারের সিদ্ধান্তে আশ্চর্য হয়েছি। কারণ এবার তাদের উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তার মতে, এটা ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তিনি বলেন, আমদানির ওপর নির্ভর করে কখনই পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখা যাবে না। এজন্য বাড়াতে হবে দেশীয় উৎপাদন। কিন্তু এটা সময়সাপেক্ষ। ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। এ সময়ে ভারতের পাশাপাশি অন্য বাজারগুলো থেকেও পেঁয়াজ আনার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, দাম বাড়লে বেশি কষ্ট পায় নিম্ন আয়ের মানুষ। কিন্তু সচ্ছল বা ধনী শ্রেণি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনে রাখে বলে দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর সুযোগ পায় ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের বেশি পেঁয়াজ না কিনে সবার সংযত হওয়া উচিত।

পেঁয়াজ নিয়ে হাহাকারের কিছু নেই : স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান

দিনাজপুরের হাকিমপুর স্থলবন্দর প্রতিনিধি জানান, ‘পেঁয়াজ নিয়ে যে অস্থিরতা সেটা আমাদের মনের। আমাদের দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে, সাম্প্রতিককালে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমাদের স্টকে আছে, আমাদের গুদামে আছে টিসিবি ও ব্যক্তি গুদামে আছে, আমাদের পেঁয়াজ নিয়ে হাহাকার করার কোনো কারণ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কেএম তারিকুল ইসলাম।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তারা যদি তাদের পণ্য রপ্তানি করতে না চায় এখানে তো জোর করার কিছু নেই। কিন্তু এতদিন তো তারা রপ্তানি করে আসছিল, এখন আমরা যেসব এলসি করছি, এটা আমরা পাব, এটা আমাদের অধিকার, এটা আমরা চাই, এটা আমরা চাইব। বিষয়টি বন্দরের নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু বন্দরে পেঁয়াজ ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে এটা দেশের অভ্যন্তরে যেতে পারে আমার বন্দর কর্তৃপক্ষ সে বিষয়টি দেখবে।’

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি আরও জানান, আগের এলসির বিপরীতে গত রবিবারে টেন্ডার হওয়া পেঁয়াজ রপ্তানির আশ্বাস দিলেও অনুমতি না মেলায় বুধবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি করেনি ভারত। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুমতি মিললে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারে বলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন। গতকাল দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অনুমতি না মেলায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজ দেশে আসেনি। অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে গত সোমবার থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। ওইদিন থেকেই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, আমরা যে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি দিয়েছিলাম যার প্রক্রিয়াও তারা বন্ধ রাখে। মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আমাদের জানিয়েছিলেন যে গত রবিবারের টেন্ডার হওয়া পেঁয়াজগুলোর রপ্তানির অনুমতি মিলতে পারে যার কারণে বুধবার ওই পেঁয়াজগুলো রপ্তানি করা হবে বলে আমাদের জানিয়েছিল, কিন্তু গতকালও তারা অনুমতি না পাওয়ায় বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেনি।

এদিকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করেনি বাংলাদেশ। আমাদের শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত তিন দিনে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে ভারতে। গত বুধবার রাতে ৯৩ দশমিক ৬ মেট্রিক টন, মঙ্গলবার ৬৩ মেট্রিক টন ও সোমবার ৪১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়।