রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকার একটি বাসা থেকে শায়লা পারভিন জুঁই (২৭) নামে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। ফরিদপুর কোতোয়ালি আলীপুর খাঁপাড়া গ্রামের মৃত লাল মিয়া খানের মেয়ে শায়লা। পরিবার নিয়ে নিকুঞ্জের ছয়তলা বাসার নিচতলায় স্বামী তরিকুল ইসলাম জনির সঙ্গে ভাড়া থাকতেন।
নিহতের মেজো ভগ্নিপতি মো. আলমগীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, শায়লা ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্টে বিবিএ ও এমবিএ করেছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে অনার্সে অধ্যয়নকালে তার বিয়ে হয়। জাইফ নামে তাদের তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তার স্বামী জনি একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার। নিকুঞ্জের ওই বাসায় ছেলেকে নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী থাকত। একই ভবনে থাকেন বড় বোন কেয়া ও তার স্বামী আলম মিয়া।
আলমগীর হোসেন আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে শায়লা তার স্ত্রীকে (শায়লার মেজো বোন) ফোন দিয়ে মন খারাপের কথা বলে। কারণ প্রকাশ না করলেও তার যে কোনো সমস্যা চলছিল তা বোঝা গেছে। এরপর গতকাল সকাল ৯টার দিকে শায়লার বড় বোনজামাই আলম মিয়া আমাদের ফোন দেওয়ার পর আমরা ওই বাসায় গিয়ে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি শায়লাকে। উপুড় হয়ে পড়েছিল সে। শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর ওপরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না ঝোলানো ছিল। তবে তার স্বামী আমাদের কাছে দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছিল। এরপর রাত ১২টার দিকে শায়লা ভেতরের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। আর সারা রাতেও দরজা খোলেনি। এরপর শুক্রবার সকালে সে তালাচাবিওয়ালাকে এনে দরজা খুলে ভেতরে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে শায়লাকে। এরপরই পুলিশে খবর দেয়।
স্বজনদের অভিযোগ, এটা নিশ্চিত হত্যাকান্ড। তা না হলে শায়লার শরীরে এত আঘাত এলো কীভাবে। স্বামী জনিই তাকে হত্যা করেছে।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, সকালে খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্বামীর মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে খিলক্ষেত থানার এসআই মো. সজিব হোসেন রাজু উল্লেখ করেন, মৃতদেহের নাকে ও ঠোঁটে রক্ত ও লালচে দাগ, বাম চোখের ভ্রুর নিচে কালো জখম, গলার বাম পাশে কালো দাগ রয়েছে।