করোনাকালে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ২৭ হাজার শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছেন। এ ছাড়া এ সময় প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক বিদেশ যেতে পারেননি। বিদেশফেরত শ্রমিকদের পুনর্বাসনে ডাটাবেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফেরত আসা শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কোনো ডাটাবেস নেই। ফেরত আসা শ্রমিকরা দেশে এসেও প্রয়োজনীয় লিগ্যাল সাপোর্ট পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) উদ্যোগে গতকাল আয়োজিত ‘অভিবাসন এবং অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর কভিড-১৯-এর প্রভাব : পুনরেকত্রীকরণ এবং কাজে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন (দেশে ও বিদেশে)’ শীর্ষক ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধে এ তথ্য জানান ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রধান শরীফুল ইসলাম হাসান। তিনি আরও বলেন, বিশে^র ৮৪ দেশে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতি আজকের অবস্থানে। কিন্তু তারা নানা হয়রানির শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসছেন।
তিনি বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের প্রায় অর্ধেক অদক্ষ। ফলে তারা বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত কাজ এবং ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না। এ ছাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর খরচ বেশি হলেও সে তুলনায় তারা মজুরি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে করোনাকালে বিদেশে কর্মসংস্থান অনেক কমেছে। তাই প্রত্যাবাসী শ্রমিকদের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিলস চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান সিরাজ ও সঞ্চালনায় ছিলেন প্রতিষ্ঠানের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শহীদুল আলম বলেন, প্রতি বছর দেশের শ্রমবাজারে ২২ লাখ কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হলেও প্রায় ৭ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ যাচ্ছেন। কিন্তু দক্ষ শ্রমিক কম। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা প্রয়োজন। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় কর্মসংস্থানের বিষয়টি যোগ করার বিষয়ে জোর দেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতা বাড়িয়ে প্রবাসীদের জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান করছে সরকার। বিদেশে মিশনের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে প্রশিক্ষিত জনবল পাঠানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারের জন্য সুরক্ষার আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। যারা বিদেশে শ্রমিক পাঠাবেন তাদের কমপ্লায়েন্সের আওতায় আনা উচিত।
বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের অর্থনীতি যে দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে তার একটি রেমিট্যান্স। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সংকটকালে তাদের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিদেশে যেসব খাতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে সেখানে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণে সরকারকে এখনই গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিলস যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের যুগ্ম সচিব, পরিচালক নুরুন আখতার, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক ড. হামিদা হোসেন প্রমুখ।