জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ‘শতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর শত গান’ বইয়ে লালমনিরহাটের সাজেদ ফাতেমীর ২টি গান স্থান পাওয়ায় তা অবিলম্বে বাদ দিয়ে সংকলটি পুঃন প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লালমনিরহাট জেলা শাখার আয়োজনে শনিবার সকালে শহরের মিশন মোড় চত্বরে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান বলেন, রাজাকার পুত্রের এবং জামায়ত পরিবারের সন্তানের গান ‘শতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর শত গান’ শীর্ষক বইয়ে স্থান পাওয়ার ঘটনায় আমরা ব্যাথিত ও ক্ষুব্ধ।
তিনি বলেন, আদিতমারী পলাশী ইউনিয়নের রাজাকারের খসড়া তালিকায় রাজাকারের ১৫ নম্বরে আছে সাজেদ ফাতেমীর বাবার নাম।
তিনি অবিলম্বে সংকলন থেকে সাজেদ ফাতেমীর গান দু’টি বাতিল করে পুনরায় সংকলন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহৎ আন্দোলনের মাধ্যমে লালমনিরহাট অচলের হুমকি দেন তিনি।
মানববন্ধনে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সাজেদ ফাতেমীর বাবা পল্লী চিকিৎসক সোলেমান কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তার পুত্রের গান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমির সংকলনে প্রকাশ পাওয়ায় আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। সেইসাথে এর সাথে কোনো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জড়িত থাকলে তাদেরও শাস্তি দাবি করছি।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, লালমনিরহাট জেলা যুবলীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সভাপতি মোড়ল হুমায়ূন কবির, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লালমনিরহাট জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন মামুন, জেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক বুলবুল আহম্মেদ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড, উপজেলা ইউনিট কমান্ড, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্মতা ঘোষণা করে।
সম্প্রতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ১০০ গানের সংকলন প্রকাশ করে। সংকলের ২৮ পৃষ্ঠায় তুমিই পিতা ও ২৯ পৃষ্ঠায় মহামানব শিরোনামে দুটি গান স্থান পায়। সংকলন প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
মোশারফ হোসেন মামুন নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, সাজেদ ফাতেমীর বাবা ডা সোলায়মান আলী ছিলেন ৭১-এ শান্তি কমিটির একজন সদস্য। সাজেদ ফাতেমীর বড় ভাই আলাউল ইসলাম ফাতেমী ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী। এছাড়াও তার আরেক ভাই জিয়াউল ইসলাম ফাতেমী নোবেল ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ক্যাপ্টেন। তিনি ছিলেন ৭১-এর যুদ্ধাপরাধী ও ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী এটিএম আজাহারুল ইসলামের মেয়ের জামাতা। এই পরিবার থেকে শিল্পকলা একাডেমি প্রকাশিত সংকলন থেকে তার গান দু’টি বাদ দেওয়ার জোর দাবি জানান।