টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় নটর ডেম ও ঢাবিতে পড়ায় ‘খ্রিষ্টান-নাস্তিক’ সাব্যস্ত করে জুয়েল খান নামে এক তরুণের পরিবারকে সমাজচ্যুত করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সোমবার দুপুরে উপজেলার তারফপুর পাথালিয়াপাড়া গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম, তরফপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ার, মির্জাপুর বিআরডিবির সহসভাপতি আবিদ হোসনে শান্ত প্রমুখ।
জুয়েল খান তরফপুর পাথালিয়াপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি ২০১৩ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স পাস করে ৪০তম বিসিএসএর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন বলে জানা গেছে। শনিবার গ্রামটিতে সরেজমিনে গিয়ে একাধিক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সোমবার দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এই সংবাদ প্রকাশ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে এদিন দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। জুয়েল খান বলেন, প্রতিবেশী চাচাতো ভাই শরিফ মাস্টারের সঙ্গে তাদের সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে শরিফ মাস্টার সালিসের নামে গত ১ মে বহিরাগত লোক এনে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করে এবং আমি নটর ডেম ও ঢাবিতে পড়ায় আমার পরিবারকে ‘খ্রিষ্টান-নাস্তিক’ সাব্যস্ত করে সমাজচ্যুত করার কথা বলেন।
শরিফ মাস্টার বলেন, গ্রাম্য সালিস চলাকালীন জুয়েল খান মোবাইলে ভিডিও করছিল। তখন সেখানে উপস্থিত মাসুদ মিয়া জুয়েলের মোবাইল কেড়ে নেয় এবং তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। খ্রিষ্টান অপবাদ বা সমাজচ্যুত করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
জুয়েল খানের বাবা মফিজুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই রশিদের সামনে কেউ চেয়ারে বসতে পারেনি। আর এখন ভাতিজা শরিফের সামনে যাতে কেউ চেয়ারে বসতে না পারে সে জন্য আমার ছেলে ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। ছেলেকে যাতে বেশি না পড়াই সে কথা শরিফ ও তার লোকজন আমাকে অনেকবার বলেছে বলে তিনি বলেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে সীমানা বিরোধই মূল বিষয় মনে হচ্ছে। তাদের এই বিরোধের সুযোগ নিয়ে গ্রামের কতিপয় লোকজন বিক্ষিপ্ত কথাবার্তার মাধ্যমে বিষয়টিকে অন্য দিকে নিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক উভয় পক্ষকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সীমানা সংক্রান্ত বিষয়ই দুই পরিবারের বিরোধের মূল কারণ। তৃতীয় কোন পক্ষ এটাকে কাজে লাগিয়ে বিষয়টিকে অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা করছে। বিক্ষিপ্ত কথাবার্তা বলে কেউ যাতে বিষয়টিকে অন্যদিকে নিতে না পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত করতে না পারে সেদিকে প্রশাসন নজর রাখবে।